নাহিদ মিয়া, মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ , ৮:৫৪:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অসুস্থতা নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই হাসপাতালে দুই রকম তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা যায়, শাহজাহানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সানোয়ার মোহাম্মদ রেজাউল করিম তিন বছর আগে যোগদানের পর থেকেই ব্যাপক দূর্নীতি ও অনিয়ম করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারী) বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একটি দল বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে একটি কাগজে টাইপকৃত বিভিন্ন দূর্নীতির অভিযোগ দেখিয়ে এ বিষয়ে জবাব চায়। এসময় প্রধান শিক্ষক চেয়ারের একপাশে ঢলে পড়ে যায়। সাথে সাথে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ও উপস্থিত শিক্ষকরা তাকে মাধবপুর উপজেলা সদরের তিতাস প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে পরীক্ষা করে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান উনার ব্লাড প্রেশার একটু বেড়ে গেছে।
পরে প্রধান শিক্ষকের পক্ষের লোকজন তাকে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে মারামারিতে আহত হয়েছেন বলে জরুরি বিভাগে দেখিয়ে সিলেট রেফার করেন। মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সেখানে প্রধান শিক্ষক সানোয়ার মোহাম্মদ রেজাউল করিম এর কোন চিকিৎসা করানো হয়নি। শুধু মারামারিতে আহত বলে রেকর্ড করানো হয়েছে। তবে তার বুক একটু ফোলা ছাড়া শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন ছিলনা।
এব্যাপারে মো: ফয়সাল মিয়া নামে এক জন আন্দোলনকারী জানান, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনেক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ আছে। তিন বছর যাবত অডিট হয়না। তবে আমরা শুধু যেগুলোর প্রমাণ আছে সেগুলোর বিষয়ে উনার কাছে জানতে চেয়েছি। এসময় তিনি অসুস্থতার অভিনয় করলে আমরা সত্যিই অসুস্থ ভেবে তিতাস হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে ডাক্তার জানান ব্লাড প্রেশার একটু বেড়ে গেছে। অন্য কোন সমস্যা নেই। পরে উনার লোকজন এসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে মারামারিতে আহত লিখিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করে দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমাদের কাছে সব ভিডিও রেকর্ড আছে, অতএব ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমাদের একটাই দাবি শাহজাহানপুর উচ্চ বিদ্যালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে এবং পড়ালেখার মান ভালো করতে হবে।
প্রধান শিক্ষক এর মুঠোফোন নম্বরে ফোন করলে রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: সিরাজুল ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জানান, আমি বাসে আছি, পরে কথা বলবো।




















