জহিরুল ইসলাম টিটু, লক্ষ্মীপুর: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ , ৯:৫৭:২৮ প্রিন্ট সংস্করণ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে একটি বিতর্কিত গরুর বাজারে হাসিল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাজারের ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের বাহার আলী মোল্লার হাট এলাকায় বসে উপজেলার সবচেয়ে বড় গরুর বাজার। প্রতি বছরের মতো এবারও বাজারটি ইজারা দেওয়া হলেও ইজারা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে আদালত স্থগিতাদেশ দেন। পরে বাজারটি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আসে।
নিয়ম অনুযায়ী, বাজারের হাসিল সরকারি লোকজনের মাধ্যমে আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা। তবে অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। নামমাত্র কিছু অর্থ জমা হলেও বাকি টাকা চলে যাচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্রের হাতে।
অভিযোগে বলা হয়, দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ হাওলাদার, তার ছেলে শিমুল হাওলাদার এবং খবির খলিফাসহ কয়েকজন ব্যক্তি বাজারের হাসিল আদায়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। আদায়কৃত অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশ সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিমুল হাওলাদার ও তার সহযোগীরা বাজারে চৌকি বসিয়ে হাসিল আদায় করছেন। এ সময় অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা অভিযোগ করেন, তাদের কাছ থেকে মনগড়া হারে টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং প্রতিবাদ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
অন্যদিকে, প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউপি তহসিলদার আব্দুল সাত্তারকে একটি দোকানে বসে থাকতে দেখা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের লোকজনই টাকা তুলছে, অন্য কেউ নেই।”
অভিযোগের বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ হাওলাদার বলেন, “আমার ছেলেসহ কয়েকজন সরকারকে সহযোগিতার জন্য চৌকিতে বসেছে। বাজারের ওই জায়গাটি আমার ব্যক্তিগত।”
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, বাজার নিয়ে বিরোধ থাকায় তহসিলদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তিনি স্থানীয়দের সহযোগিতা নিতে পারেন। তবে হাসিলের টাকা নিয়ে কোনো অনিয়ম হলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।




















