স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর: ১৪ মে ২০২৬ , ৯:৪০:৩৫ প্রিন্ট সংস্করণ
শিল্পনগরী টঙ্গীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কথিত আবাসিক “জাভান” হোটেলকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দিনের বেলায় সাধারণ আবাসিক হোটেল হিসেবে পরিচালিত হলেও রাত নামলেই এটি পরিণত হয় মাদক কারবারি, দেহব্যবসা চক্র, ছিনতাইকারী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে। এতে পুরো এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে হোটেলটিতে ঘটে নতুন এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক কাস্টমার ও হোটেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে শব্দটি ককটেল বিস্ফোরণের নাকি আগ্নেয়াস্ত্রের গুলির ছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে জাতীয় সাপ্তাহিক মুক্ত বাংলা পত্রিকার সম্পাদক সরওয়ার জাহান মেঘলা ঘটনাস্থলে যান। অভিযোগ রয়েছে, তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের সময় জাভান হোটেলের মালিক ও তার সহযোগীরা তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে তার হাত থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হলে সেটি ভেঙে যায়। ঘটনাটি ঘিরে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এছাড়া স্থানীয় একাধিক সংবাদকর্মীর অভিযোগ, জাভান হোটেলে চলমান বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলেই হোটেল সংশ্লিষ্টদের বাধা, হুমকি ও দুর্ব্যবহারের মুখে পড়তে হয়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিকট শব্দের উৎস শনাক্তে তদন্ত শুরু করে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি, সেটি ককটেল বিস্ফোরণ নাকি আগ্নেয়াস্ত্রের গুলির শব্দ ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, হোটেলটিতে রাতভর ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকের কেনাবেচা ও সেবন চলে। শুধু হোটেলের ভেতরেই নয়, আশপাশের এলাকাতেও প্রকাশ্যে মাদক সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মাদকসেবী ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আনাগোনায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং জাভান হোটেলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।




















