প্রতিনিধি ১৭ মে ২০২৬ , ১:২২:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ
মালদ্বীপে স্কুবা ডাইভিং দুর্ঘটনায় নিহত একদল ইতালীয় নাগরিকের মৃতদেহ খুঁজতে নেমে এক উদ্ধারকারী ডুবুরির মৃত্যু হয়েছে। মালদ্বীপ সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, স্টাফ সার্জেন্ট মোহামেদ মাহদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পরে তিনি মারা যান।
গতকাল শনিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার সমুদ্রের প্রায় ৫০ মিটার গভীরে গুহা খুঁজতে গিয়ে ইতালির পাঁচ নাগরিকের মৃত্যু হয়। এখনও পর্যন্ত তাদের একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা গেছে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠের ৬০ মিটার নিচে একটি গুহায় পাওয়া গেছে।
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু শনিবার ভাভু প্রবাল দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় বাকি ইতালীয় নাগরিকদের মৃতদেহ উদ্ধার অভিযান দেখতে গিয়েছিলেন। সরকারের মুখপাত্র মোহামেদ হোসেইন শরিফ বিবিসিকে জানান, “৮ উদ্ধারকারী ডুবুরি পানিতে নেমেছিলেন। তারা যখন ভেসে ওঠেন, তখন বুঝতে পারেন যে মাহদি ফিরে আসেননি।” পরে অন্যান্য উদ্ধারকারী ডুবুরিরা সমুদ্রের তলদেশে গিয়ে মাহদিকে অচেতন অবস্থায় পান।
মালদ্বীপের সামরিক বাহিনী আগেই সচেতন করেছিল, বিরূপ আবহাওয়ায় সমুদ্র তলদেশে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মাহদির মৃত্যুর খবরে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানি শোক প্রকাশ করেছেন।
নিহত পাঁচজন ইতালীয়ের মধ্যে চারজন জেনোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা দলের সদস্য ছিলেন। তারা হলেন অধ্যাপক মনিকা মন্টিফেলকোন, তার মেয়ে এবং দুই তরুণ গবেষক। অন্য একজন ছিলেন নৌযান পরিচালনা ব্যবস্থাপক ও ডাইভিং প্রশিক্ষক।
তারা বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোরে ভাভু দ্বীপপুঞ্জের কাছে সমুদ্রে নেমেছিলেন। অনেকক্ষণ পরও তারা ভেসে না ওঠায় নৌযানের ক্রুরা নিখোঁজ হওয়ার খবর দেন। ওই সময় আবহাওয়া বিরূপ ছিল এবং মালে থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছিল।
সরকারি সূত্র বলছে, বেড়াতে আসা স্কুবা ডাইভারদের সাধারণত ৩০ মিটার গভীর পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু এই ইতালীয়রা কীভাবে ৬০ মিটার গভীরতার গুহায় পৌঁছালেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ডিউক অব ইয়র্ক ইয়ট থেকে পাঁচজন সমুদ্রে নেমেছিলেন, সেখানে আরও ২০ ইতালীয় নাগরিক ছিলেন। তারা সবাই নিরাপদ আছেন এবং শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অবস্থিত ইতালি দূতাবাস তাদের সকল ধরনের সহায়তা দিচ্ছে।




















