সারাদেশ

কাপাসিয়ায় জাল দলিলে জমি দখলের অভিযোগ

  প্রতিনিধি ১৭ মে ২০২৬ , ২:৩৮:১৩ প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় জন্মেরও তিন বছর আগে জমির মালিক হওয়ার বিস্ময়কর তথ্য ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জাল দলিল তৈরি করে জমি দখলের চেষ্টা এবং আদালতে ভুয়া কাগজপত্র উপস্থাপনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী নারী উম্মে কুলসুম।

আজ রোববার সকালে উপজেলার সিংহশ্রী ইউনিয়নের কপালেশ্বর এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, তার সৎ ভাই আলতাফ হোসেন পরিকল্পিতভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে গাজীপুর আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উম্মে কুলসুম বলেন, ‘বিবাদীপক্ষ আদালতে ১৯৭০ সালের ২৯ জানুয়ারির ১১৯১ নম্বর সাব-কবলা দলিল উপস্থাপন করে জমির মালিকানা দাবি করে। কিন্তু পরে শ্রীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে মূল নথির সই-মুহুরী নকল উত্তোলন করে দেখা যায়, প্রকৃত দলিলে ৩৫ শতাংশ জমির দাতা ছিলেন বানাছা খাতুন এবং গ্রহীতা নোয়াব আলী। কিন্তু আদালতে দাখিলকৃত দলিলে সিংহশ্রী মৌজার জমির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।’

অপরদিকে অভিযুক্তরা একই দলিল নম্বর ব্যবহার করে তমিজ উদ্দিনকে দাতা এবং আলতাফ হোসেনকে গ্রহীতা সাজিয়ে সিংহশ্রী মৌজার ৬৯ শতাংশ জমির ভূয়া মালিকানা দাবি করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে ডিজিটাল যাচাই-বাছাই ও এনআইডি অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য।

উম্মে কুলসুমের দাবি, জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী আলতাফ হোসেনের জন্ম ১৯৭৩ সালে। অথচ তিনি যে দলিলের ভিত্তিতে জমির মালিকানা দাবি করছেন, সেটি ১৯৭০ সালের। অর্থাৎ জন্মের তিন বছর আগেই তিনি জমির মালিক হয়ে গেছেন, যা আইনগত ও বাস্তবিকভাবে অসম্ভব।

তিনি আরও দাবি করেন, দুটি দলিল মূলে ৭৮ শতাংশ সম্পত্তির বৈধ মালিক হয়েও দখলে নিতে পারছেন না আলতাফ হোসেনের কারণে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আলতাফ হোসেন তার অবৈধ দখল টিকিয়ে রাখতে একাধিক নাম ব্যবহার করে নামজারির নথিকে ভিত্তি দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমি দখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।

এ উদ্দেশ্যে তারা দেওয়ানি মামলা (১০৩/২৫) ও ফৌজদারি রিভিশন মামলা (৩০৯/২৫) দায়ের করে আদালতে কথিত জাল দলিল ব্যবহার করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, উম্মে কুলসুম বাদী হয়ে সম্প্রতি গাজীপুর আদালতে দণ্ডবিধির ৪৪৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪১৯, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামি আলতাফ হোসেন, মো. মোবারক হোসেন, বিউটি বেগম ও মোসা. তানিয়া আক্তার তাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে “জন্মের আগের দলিলে জমির মালিক” হওয়ার বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কপালেশ্বর গ্রামে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। স্থানীয়দের অনেকেই বিষয়টিকে ‘পরিকল্পিত দলিল জালিয়াতির বড় উদাহরণ’ হিসেবেই দেখছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে, মামলা দায়েরের পর থেকে তারা হুমকি-ধামকির মুখে রয়েছেন। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন তারা।

অভিযুক্ত আলতাফ হোসেন তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বলেন, ‘তার সৎ বোন উম্মে কুলসুম সম্পত্তি পাবে। তবে সে একটি দলিল তৈরি করেছে যাতে বাবার স্বাক্ষর নেই।’

স্থানীয়রা বলেন, ‘আলতাফ হোসেন বিভিন্ন ফন্দি করে উম্মে কুলসুমকে বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অপচেষ্টা করে আসছেন।’

আরও খবর

Sponsered content