সারাদেশ

পাঁচ মাসে পীরগঞ্জে ৭৭ জনের বিষপান, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ

  হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ৩১ মে ২০২৬ , ১১:২৭:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বিষপানজনিত ঘটনা। পারিবারিক কলহ, অর্থনৈতিক সংকট, মাদকাসক্তি, অনলাইন জুয়ার বিস্তার এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানসিক চাপের কারণে অনেকেই চরম হতাশার মধ্যে পড়ে বিষপানের মতো ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত পাঁচ মাসে বিষপানজনিত কারণে অন্তত ৭৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৭ জন নারী এবং ৪০ জন পুরুষ। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কয়েকজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নারীদের ক্ষেত্রে পারিবারিক অশান্তি, দাম্পত্য কলহ, প্রবাসী স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি, পারিবারিক চাপ ও বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার কারণে মানসিক সংকট তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে পুরুষদের মধ্যে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ঋণের চাপ, মাদকাসক্তি, অনলাইন জুয়ার কারণে ক্ষতি এবং পারিবারিক বিরোধ গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

পীরগঞ্জের আইনজীবী আবু সায়েম বলেন, “মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার সমাজে নতুন ধরনের সংকট সৃষ্টি করেছে। অর্থনৈতিক ও পারিবারিক চাপের সঙ্গে এসব সমস্যা যুক্ত হয়ে অনেককে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে।”

পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্মরত আনোয়ার হোসেন জানান, অধিকাংশ রোগী দানাদার বিষ বা আগাছানাশক জাতীয় বিষাক্ত পদার্থ সেবনের পর হাসপাতালে আসেন। দ্রুত চিকিৎসা প্রদান করা হলেও প্রয়োজনীয় কিছু আধুনিক সুবিধার অভাব রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ওয়ারিস ইয়াজদানি বলেন, “গত পাঁচ মাসে বিষপানজনিত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতাল ও দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে হয়েছে। রোগীদের সেবা আরও উন্নত করতে পৃথক ওয়াশ রুম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতিকর্মী অধ্যাপক মনোতোষ কুমার দে বলেন, “পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা, সামাজিক অবক্ষয়, একাকীত্ব, মানসিক চাপ ও মাদকাসক্তি মানুষের মানসিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিষপানজনিত ঘটনার বৃদ্ধি একটি বৃহত্তর সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সংকেত। পরিবারে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, তরুণদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং তৃণমূল পর্যায়ে কাউন্সেলিং সেবা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।

আরও খবর

Sponsered content