সারাদেশ

সব রাজনৈতিক দলের স্বাধীন কর্মকাণ্ড নিশ্চিত করতে চায় বিএনপি: মির্জা ফখরুল

  হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ৪ জুন ২০২৬ , ১২:৩৬:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি দেশের সব রাজনৈতিক দলের স্বাধীন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, মতপ্রকাশ এবং জনগণের সামনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ নিশ্চিত করতে চায় বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (৩ জুন) বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলার নবগঠিত ভূল্লী উপজেলার কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশে একটি সহনশীল, অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায় বিএনপি। আমরা এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সব রাজনৈতিক দল স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে এবং জনগণের সামনে নিজেদের মতামত তুলে ধরতে পারবে। শেষ পর্যন্ত জনগণই নির্ধারণ করবে তারা কাকে সমর্থন করবে।”

তিনি বলেন, দেশের মানুষ বিএনপির প্রতি যে আস্থা ও প্রত্যাশা দেখিয়েছে, তা ধরে রাখতে নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের কল্যাণে কাজের মাধ্যমেই সেই আস্থা আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “নির্যাতন, দমন-পীড়ন কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। জনগণের শক্তিই শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটিয়েছে।”

অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিএনপি অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি চায় না। সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে দলটি বদ্ধপরিকর, যেখানে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের আচরণ, সততা ও জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। বিএনপি জনগণের দল। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে সেই আস্থা ধরে রাখা সম্ভব হবে না।”

ভূল্লী অঞ্চলের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তিনি এলাকার প্রয়াত ও প্রবীণ রাজনৈতিক নেতাদের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এ অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। তাদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগের ইতিহাস জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, বিগত শাসনামলে বিএনপির নেতাকর্মীরা ব্যাপক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। অনেককে আত্মগোপনে থাকতে হয়েছে এবং মামলা-হামলার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়েছে। তবে জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে শেষ পর্যন্ত স্বৈরশাসনের পরাজয় ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজসহ উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি সময়ের দাবি। তিনি তরুণদের কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষায় দক্ষ হয়ে দেশি-বিদেশি শ্রমবাজারের উপযোগী হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “দক্ষ জনশক্তিই দেশের অন্যতম বড় সম্পদ। যুবসমাজকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।”

শিল্পায়নের প্রসঙ্গে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তবে কৃষিভিত্তিক শিল্প সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এ অঞ্চলের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি। তাই কৃষিকে কেন্দ্র করেই শিল্পায়নের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের বর্ষা মৌসুমে জেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও খবর

Sponsered content