সারাদেশ

স্বর্ণের কলসির প্রলোভনে অর্থ আত্মসাৎ, শেষে গৃহবধূকে হত্যা: ঠাকুরগাঁওয়ে কবিরাজ গ্রেফতার

  ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ৪ জুন ২০২৬ , ৫:৫০:০০ প্রিন্ট সংস্করণ

 

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ভাতুরিয়া এলাকায় উদ্ধার হওয়া গৃহবধূ নাসিমা আক্তারের (৩৬) হাত-পা বাঁধা অর্ধদগ্ধ মরদেহের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। স্বর্ণের কলসি ও স্বর্ণের পুতুল পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন অর্থ আত্মসাৎ করার পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় স্থানীয় কবিরাজ ও তান্ত্রিক মো. সামশুল হককে (৫৫) গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) রাত সাড়ে ৮টায় ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ খোদাদাদ হোসেন এসব তথ্য জানান।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন সকাল ৭টার দিকে উপজেলার ভাতুরিয়া ইউনিয়নের ফাজিলপুর তন্নিদিঘির পূর্বপাশে গড় নামক স্থান থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের দেওয়া খবরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মরদেহের গলায় রশির দাগ, দগ্ধ চিহ্নসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেনের নির্দেশনায় জেলা পুলিশের একাধিক টিম তদন্তে নামে। নিহতের ১২ বছর বয়সী মেয়ের দেওয়া তথ্য, অর্থ লেনদেনের সূত্র এবং প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে মাত্র ২০ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়।

তদন্তে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণের কলসি ও স্বর্ণের পুতুল পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে নাসিমা আক্তারের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন সামশুল হক। ঘটনার দিন নাসিমা প্রতিশ্রুত স্বর্ণ এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশের দাবি, সেখানে তন্ত্র-মন্ত্রের আচার পালনের কথা বলে তার গলায় দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা এবং আলামত নষ্টের উদ্দেশ্যে তার পরিহিত বোরখায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তবে আগুন পুরোপুরি না ছড়ানোয় মরদেহের কিছু অংশে দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন রয়ে যায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার দিনই সামশুল হককে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত এবং নাসিমার কাছ থেকে নেওয়া ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, সামশুল হক দীর্ঘদিন ধরে অলৌকিক শক্তি, গুপ্তধন এবং স্বর্ণের কলসির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে এ ধরনের একাধিক প্রতারণার অভিযোগের তথ্যও পাওয়া গেছে।

গ্রেফতারকৃত সামশুল হক হরিপুর উপজেলার টেংরিয়া মকবুলপাড়া গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে। নিহত নাসিমা আক্তার রাণীশংকৈল উপজেলার রাউতনগর গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহর স্ত্রী।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় কোনো দৃশ্যমান সূত্র ছাড়াই শুরু হওয়া এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত দ্রুত অগ্রগতি লাভ করে। গ্রেফতারকৃত আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content