মো. সাকিব চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার ১৩ জুন ২০২৬ , ৩:৩১:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্বরত এক চিকিৎসকের ওপর হামলার অভিযোগে জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ সময় হাসপাতালের মর্গের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। অপরদিকে মরদেহ হস্তান্তরের দাবিতে হাসপাতালের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করেন রোগীর স্বজনরা।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সিসিইউতে ভর্তি থাকা এক রোগীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে অক্সিজেন মাস্ক প্রয়োজন হয়। তাৎক্ষণিকভাবে মাস্ক সরবরাহ করা সম্ভব না হওয়ায় রোগীর মৃত্যু ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর ক্ষুব্ধ স্বজনরা দায়িত্বরত চিকিৎসকের ওপর হামলা চালান বলে দাবি করেছেন চিকিৎসকরা।
ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেন এবং মর্গের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। অন্যদিকে রোগীর স্বজনরা মরদেহ হস্তান্তরের দাবিতে হাসপাতালের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলার কারণেই তাদের স্বজনের মৃত্যু হয়েছে। তারা দাবি করেন, চিকিৎসা অবহেলার বিষয়টি আড়াল করতে মরদেহ আটকে রাখা হয়েছে। দ্রুত মরদেহ হস্তান্তর না করলে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
তবে চিকিৎসকদের দাবি, রোগীর চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা করা হয়নি। বরং রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বজনরা অযৌক্তিকভাবে দায়িত্বরত চিকিৎসকের ওপর হামলা চালিয়েছেন।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, “উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। আমরা আশা করছি খুব দ্রুত একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।”
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।




















