সারাদেশ

সিলেটে টিটিসি ড্রাইভারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে ঘুষের বিনিময়ে ‘ক্লিনচিট’ দেওয়ার দাবি

  সিলেট প্রতিনিধি: ১৫ জুন ২০২৬ , ১২:৫৯:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেট সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-এর ড্রাইভার কাজি বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে অনিয়ম এবং ঘুষের বিনিময়ে তার পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক সংগঠন সিলেট নাগরিক অধিকার পরিষদ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে।

রোববার (৮ জুন) সকাল ১১টায় সংগঠনের সদস্যরা সিলেট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর বরাবর এ স্মারকলিপি জমা দেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সিলেট সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলের বেকার যুবকদের দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

অভিযোগে বলা হয়, টিটিসির ড্রাইভার কাজি বিল্লাল হোসেন প্রায় ২০ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। বিগত বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে তিনি ওই পদে বহাল থেকেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। দীর্ঘদিন একই প্রতিষ্ঠানে থাকার সুযোগে তিনি বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলেও স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, দক্ষিণ সুরমা এলাকায় তার কোটি টাকার বাড়ি, একাধিক সিএনজি অটোরিকশা এবং বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে। টিটিসির বিভিন্ন কার্যক্রমে তার প্রভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

সিলেট নাগরিক অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ গত ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে কাজি বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একজন তদন্ত কর্মকর্তা সিলেট টিটিসিতে তদন্তে আসেন।

স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ পরিচালনা) প্রকৌশলী বি.এম. শরিফুল ইসলাম কাজি বিল্লাল হোসেনের কাছ থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে তার পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এছাড়া তদন্তকালীন সময়ে সিলেটে অবস্থানকালে তার থাকা-খাওয়া ও বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণের ব্যয়ও কাজি বিল্লাল হোসেন বহন করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

সিলেট নাগরিক অধিকার পরিষদ অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কাজি বিল্লাল হোসেনকে সিলেট থেকে বদলির দাবি জানিয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে কাজি বিল্লাল হোসেন ও উপ-পরিচালক প্রকৌশলী বি.এম. শরিফুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

আরও খবর

Sponsered content