প্রতিনিধি ১৬ জুন ২০২৬ , ১২:০৮:২৪ প্রিন্ট সংস্করণ
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং দেশটির কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রকৃত অবস্থান কী তা খতিয়ে দেখতে আন্তর্জাতিক পরমাণু পর্যবেক্ষকদের সেখানে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)-এ এই বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স দাবি করেন, ওই চুক্তি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে।
তবে ইরান আদৌ এই পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকার দেবে কি না এমন প্রশ্ন উঠলে ভ্যান্স বলেন, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী তেহরানের তা অনুমোদন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তার ভাষায়, এ নিয়ে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা থাকা উচিত নয়।
তিনি আরও জানান, সমঝোতা স্মারকের মূল ভিত্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পারমাণবিক তদারকি। এতে ইরান সম্মত হয়েছে যে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি এ বিষয়ে সম্পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে তেহরান।
তবে মার্কিন প্রশাসনের একাংশের মধ্যে এ নিয়ে সংশয় রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি। তাদের মতে, এত সংবেদনশীল ইস্যুতে ইরান কতটা সহজে পূর্ণ সহযোগিতা করবে বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
ভ্যান্স আরও ইঙ্গিত দেন, পর্যবেক্ষক দলের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্ক্রিয় করার বিষয়েও ভবিষ্যতে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে জানান তিনি।
এর আগে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের হাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে দেওয়া হবে না। তার মতে, এমন ক্ষমতা থাকলে তা ব্যবহার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারকে ট্রাম্প, জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি পার্লামেন্ট স্পিকার মুহাম্মদ বাঘের গালিবাফের স্বাক্ষর রয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে, যেখানে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন ভ্যান্স।











