প্রদীপ দে, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি: ১৭ জুন ২০২৬ , ১০:৩১:০৮ প্রিন্ট সংস্করণ
বরিশালের আগৈলঝাড়া কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী বিষ্ণু মন্দিরে সনাতন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে চার দিনব্যাপী ৩২ প্রহরের শ্রী শ্রী মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান (কীর্তন) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বুধবার (১৭ জুন) ভোররাতে এই ধর্মীয় আয়োজনের সমাপ্তি হওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানকে ঘিরে মন্দির প্রাঙ্গণে সকল বয়সী নারী-পুরুষসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
উপজেলা সদরের শ্রী শ্রী বিষ্ণু মন্দিরে গত ১৪ জুন থেকে শুরু হওয়া এ যজ্ঞানুষ্ঠান বিরতিহীনভাবে চার দিনব্যাপী চলমান রয়েছে। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে হাজারো ভক্ত প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কীর্তন শ্রবণে অংশ নিচ্ছেন।
এ বছর দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ছয়টি কীর্তন দল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে খুলনার শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ সম্প্রদায়, গোপালগঞ্জের গীতাঞ্জলি সম্প্রদায়, সাতক্ষীরার শ্রী শ্রী ব্রজের গোপাল সম্প্রদায়, মাদারীপুরের প্রভু মন্দির সম্প্রদায়, গোপালগঞ্জের লক্ষ্মী নারায়ণ সম্প্রদায় এবং বরিশালের ব্রজ বৃন্দাবন সম্প্রদায়। প্রতিটি দল ভক্তদের উদ্দেশ্যে নিজস্ব ধারায় কীর্তন পরিবেশন করছে।
মন্দির সূত্রে জানা যায়, ১৯৮০ সালে মন্দিরের উত্তর পাশের একটি পুকুর খননের সময় কষ্টিপাথরের একটি বিষ্ণু মূর্তি পাওয়া গেলে সেখানে মন্দির প্রতিষ্ঠা করে পূজা-অর্চনা শুরু হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর ২৪ প্রহরব্যাপী মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা ও পুরোহিত সঞ্জয় কুমার দাস ২০১৫ সালে মৃত্যুবরণ করলে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পরিবারের উদ্যোগে কীর্তনের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩২ প্রহরে উন্নীত করা হয়। গত ১১ বছর ধরে চার দিনব্যাপী এই ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আগত ভক্তদের জন্য প্রতিদিন তিন বেলা রান্না করা প্রসাদ বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া সমাপনী দিনে বিশেষ প্রার্থনা ও পূজা-অর্চনার পর ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হবে।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই মন্দিরে মানত করে অনেকেই বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও আরোগ্য লাভ করেছেন। ফলে প্রতিবছর দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য ভক্ত এখানে এসে পূজা-অর্চনা ও মানত পালন করেন।
মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান উপলক্ষে মন্দির সংলগ্ন এলাকায় অস্থায়ী দোকানপাট বসেছে। ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
কীর্তন শুনতে আসা কাঠিরা গ্রামের ৬০ বছর বয়সী শেফালী বাড়ৈ বলেন, “প্রতিবছর এই কীর্তনের জন্য অপেক্ষা করি। চার দিন ভক্তিমূলক পরিবেশে কাটিয়ে প্রসাদ নিয়ে বাড়ি ফিরি।”
পশ্চিম সুজনকাঠি গ্রামের ভক্ত সৈকত মণ্ডল দীপু বলেন, “মন্দিরে ভক্তদের চাপ সামাল দিতে আমরা সার্বক্ষণিক কাজ করছি। এত বেশি ভক্ত সমাগম হয়েছে যে নিজের পরিবারকেও সময় দিতে পারছি না।”
কীর্তন পরিচালনা কমিটির প্রধান এবং বাকাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিপুল দাস বলেন, “মন্দিরটি প্রধান সড়কের পাশে হওয়ায় ভক্ত ও পথচারীদের নিরাপত্তা আমাদের জন্য বড় বিষয়। সবাই যেন নিরাপদে কীর্তন শুনে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেই কামনা করছি।”
আগৈলঝাড়া শ্রী শ্রী বিষ্ণু মন্দির কমিটির সভাপতি প্রফুল্ল সরকার বলেন, “১৯৮০ সাল থেকে এই মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মন্দিরে আগত সকল ভক্তের সুস্থতা, নিরাপত্তা ও মঙ্গল কামনা করছি।”




















