মো: সাকিব চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১২:৪৯:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে দক্ষ জনশক্তির প্রচণ্ড চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশের অদক্ষ শ্রমিকরা কম বেতনের চাকরির জন্য বেশি অর্থ খরচ করে বিদেশে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে রংপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, দুটো খাতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার, একটা শিক্ষা ও অপরটা স্বাস্থ্য। বাইরের দেশে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমরা পারছি না তবে চেষ্টা করছি। চিকিৎসক, নার্সের সমস্যা নিরসনের অংশ হিসেবে এই স্বল্প সময়ে সাড়ে ৩ হাজার নার্স ও ৩ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই খাতে বাজেট বাড়ানো হয়েছে। আগামী বছর তা দেখা যাবে। আমরা কিছু প্রকল্প শুরু করেছি। আশা করছি, পরের সরকার তা ধরে রাখবে।
মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, আলু রপ্তানির বিষয়টি নিয়ে সরকার ভাবছে। যদিও এটা সহজ নয়। কেননা পৃথিবীতে দুই একটা দেশ নিয়মিত আলু আমদানি করে। তবে কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে কিছু দেশ আলু আমদানি করে থাকে। তাছাড়া আমদানি করে না।
রংপুর অঞ্চলে প্রাণিসম্পদের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, রংপুরে অনেক ছোট গরু মানে দেশি গরু পালন করা হয়। যে গরুর মাংস খুবই সুস্বাদু হয়। এই গরুর মাংসের বাজার ভালো। এই বিষেয় প্রাণিসম্পদ উদ্যোগ নিতে পারে। কেননা এসব গরুর মাংসের চাহিদা ঢাকাতেও বেশি।
তিনি বলেন, বাজারের সঙ্গে একটা ইন্টারফেস তৈরি করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে কী ধরনের স্কিলের ডিমান্ড আছে, সেই স্কিলটা তৈরি করা। আমরা গতানুগতিক করে যাচ্ছি। আমি সরকারের অংশ কাজেই দোষটা আমারও কিন্তু আংশিক। আমরা চেষ্টা করছি। আমরা কানাডা ও জাপানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি, ওখানকার কোনো একটি প্রতিষ্ঠান আমাদের দেশে এসে তাদের ডিমান্ড অনুযায়ী ট্রেনিং দিক। আমরা একটা ট্রেনিং ইনস্টিটিউট তাদেরকে দিয়ে দেব।
স্কিলড ম্যানপাওয়ারের ডিমান্ড এবং বেতনও অনেক বেশি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, আমাদের দেড় কোটি লোক দেশের বাহিরে আছেন। তার মধ্যে প্রায় এক কোটি কর্মী। আমাদের রেমিট্যান্সের ওপর আমাদের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু এই রেমিট্যান্স এই মানুষগুলোর কাছ থেকেই এর দ্বিগুণ হতে পারতো, তিনগুণ হতে পারতো যদি তারা আসলে সবাই স্কিলড হতো।
বিভিন্ন দেশের ভাষার গুরুত্ব তুলে ধরে উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, জাপানি ভাষায় এন-ফোর স্তর পাস করতে পারলে তাদের জাপানে ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউটে ভর্তির সুযোগ হয়। ভর্তির পর সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টা কাজ করে থাকা-খাওয়া ও পড়ালেখার খরচ বহন করেও দেশে টাকা পাঠানো সম্ভব, কারণ জাপানে বেতন অত্যন্ত বেশি।
তিনি উল্লেখ করেন, যে ছেলেটি আরবি বলতে পারে, সে মিডলইস্টে গেলে তার বেতন দ্বিগুণ হয়ে যায়। আর ইংরেজি বলতে পারলে তার বেতন তিনগুণ হয়। তিনি উদাহরণ দেন, একই কাজ করেও ইংরেজি বলতে না পারায় ইন্ডিয়া থেকে যাওয়া এক শ্রমিকের বেতন এক-তৃতীয়াংশ হয়, কারণ তার বেতনের দুই গুণ ‘কফিলের’ পকেটে যায়।
মতবিনিময় সভায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও আইনশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসানের সভাপতিত্বে সভায় বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




















