প্রতিনিধি ১৫ মে ২০২৬ , ১১:৫৭:০১ প্রিন্ট সংস্করণ
দীর্ঘ ১০ সপ্তাহ দাম অপরিবর্তিত থাকার পর হঠাৎ করেইভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৩ রুপি বাড়ানো হয়েছে।
আজ শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও।
শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান হয়।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এতদিন মূল্যবৃদ্ধি ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, রুপির দরপতন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলোর বিপুল লোকসানের কারণে শেষ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ও জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। সংঘাতের আগে ভারতের ক্রুড অয়েল বাস্কেটের দাম যেখানে ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৬৯ ডলার, পরে তা বেড়ে ১১৩ থেকে ১১৪ ডলারে পৌঁছে।
ভারত তার মোট চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি দেশের আমদানি ব্যয়ে পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রুপির দরপতন। সম্প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির মান রেকর্ড নিম্নস্তরে নেমে যায়। এতে একই পরিমাণ তেল কিনতেও ভারতকে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলো- ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম, গত ১০ সপ্তাহ ধরে পুরনো দামে জ্বালানি বিক্রি করে বিপুল লোকসান গুনেছে। প্রতিদিন তাদের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি রুপি। সব মিলিয়ে লোকসান ১ লাখ কোটি রুপির বেশি ছাড়িয়ে যায়।
এর আগে সাধারণ মানুষের চাপ কমাতে কেন্দ্রীয় সরকার আবগারি শুল্কও কমিয়েছিল। পেট্রোলে আবগারি শুল্ক ১৩ রুপি থেকে কমিয়ে ৩ রুপি এবং ডিজেলে ১০ রুপি থেকে শূন্যে নামানো হয়। এতে সরকারের মাসিক রাজস্ব ক্ষতি হয় প্রায় ১৪ হাজার কোটি রুপি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান ৩ রুপির মূল্যবৃদ্ধি পুরো ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। তেল কোম্পানিগুলো এখনও বড় অংশের চাপ বহন করছে। তবে এই পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে কিছুটা স্থিতিশীল করবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আগামী দিনে কোন দিকে যায়, তার ওপরই নির্ভর করবে ভারতে জ্বালানি মূল্যের ভবিষ্যৎ।














