আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশ-পাকিস্তানে হামাস-সংশ্লিষ্ট তৎপরতার অভিযোগ ইসরায়েলের

  প্রতিনিধি ১৮ জুন ২০২৬ , ৩:২২:০৪ প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাস-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে দক্ষিণ এশিয়ায় উগ্রপন্থী নেটওয়ার্কের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ওপর হামাসের হামলার পর থেকে এসব তৎপরতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইসরায়েল।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আজার বলেন, ‘আমরা পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাসের কার্যক্রম অনুসরণ করছি।’ তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।

ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের দাবি, কিছু তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া গেলেও আরও কিছু কর্মকাণ্ড জনসমক্ষে না-ও থাকতে পারে। তার আশঙ্কা বিভিন্ন উগ্রপন্থী গোষ্ঠী ৭ অক্টোবরের হামলাকে অন্য অঞ্চলে একই ধরনের অভিযান পরিচালনার ‘মডেল’ হিসেবে দেখতে পারে।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতি পুরো অঞ্চলের সরকারের জন্য উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, এ বিষয়ে ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও ইসরায়েল উদ্বেগের বিষয়গুলো ভাগাভাগি করেছে।

সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আজার। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের ইসলামাবাদের প্রচেষ্টা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।

ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত বলেন, ইসরায়েল পাকিস্তানকে বিশ্বাস করে না এবং দেশটির কূটনৈতিক অবস্থানকে সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করে। তার ভাষায়, ‘কিছু দেশ শান্তি বলতে এমন একটি পরিস্থিতিকে বোঝে যেখানে ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকবে না।’

তিনি শুধু পাকিস্তান নয়, কাতারের ভূমিকাও সমালোচনা করেন এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে কিছু দেশের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

আজার অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কিছু অংশ ইহুদিবিদ্বেষী (অ্যান্টি-সেমিটিক) বক্তব্যকে উৎসাহিত করে। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের কিছু মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য ইসরায়েলের প্রতি ইসলামাবাদের নীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের বিষয়ে আস্থা সৃষ্টি করে না।

সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়েও কথা বলেন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত। তিনি জানান, ইরানকে ঘিরে যেকোনো আন্তর্জাতিক সমঝোতায় নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং আঞ্চলিক হুমকির বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে কি না, সেদিকে নজর রাখছে ইসরায়েল।

মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে এসব বিষয় ইসরায়েলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, ভারত দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংলাপ ও কূটনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিভিন্ন সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভারত ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে হামাস-সংশ্লিষ্ট তৎপরতার বিষয়ে ইসরায়েলের এই অভিযোগ দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করতে পারে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি।

আরও খবর

Sponsered content