প্রতিনিধি ১৯ জুন ২০২৬ , ১০:২২:০২ প্রিন্ট সংস্করণ
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সুইজারল্যান্ড সফর আপাতত স্থগিত করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। শুক্রবার শুরু হতে যাওয়া আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য তার জেনেভায় যাওয়ার কথা ছিল। হোয়াইট হাউস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ৬০ দিনের আলোচনাপ্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি মহলের সমালোচনার মুখেও সমঝোতার পক্ষে অবস্থান নেন ভ্যান্স। তিনি বলেছিলেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।
তবে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানান, এত বড় ও জটিল কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রস্তুতি এবং সমন্বয় কখনোই সহজ ছিল না। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্ধারিত সময় অনুযায়ী যাত্রা করছেন না। তবে যত দ্রুত সম্ভব কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আশাবাদী বলেও জানান তিনি।
এর আগে শুক্রবার জেনেভায় সমঝোতা স্মারকটিতে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের কথা ছিল। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানও এ বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই গত বুধবার রাতে চুক্তিটি অনলাইনে স্বাক্ষরিত হয়।
ফ্রান্স সফররত অবস্থায় ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে স্মারকে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে তেহরান থেকে এতে স্বাক্ষর করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
পরে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ জানান, শুক্রবার জেনেভায় আর কোনো আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হচ্ছে না। তবে এদিন থেকেই চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে।
পর্বতঘেরা একটি অবকাশকেন্দ্রে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও পাকিস্তান, কাতারসহ মধ্যস্থতাকারী কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। ৬০ দিনব্যাপী আলোচনায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং দেশটির জব্দ করা অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
যদিও ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছিল, তবু এবার ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ইরান যতদিন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আচরণ করবে, ততদিন নির্ধারিত সময়সীমা নিয়ে তার উদ্বেগ নেই।
এদিকে, বুধবার স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারককে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে তেহরান। তবে আশঙ্কা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। কারণ চুক্তি স্বাক্ষরের পরই শর্ত লঙ্ঘিত হলে ইরানে আবারও হামলার হুমকি দেন ট্রাম্প। একই সময়ে সমঝোতার চেতনার পরিপন্থীভাবে লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।
সব অনিশ্চয়তার মধ্যেও ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর এই সমঝোতা স্মারকে দুই দেশের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কয়েক মাসের সংঘাতে সাত হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা। যুদ্ধের প্রভাবে অঞ্চলজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতাও তীব্র আকার ধারণ করেছে।




















