প্রতিনিধি ১৯ জুন ২০২৬ , ১:২২:২১ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীতে বেড়েছে মাছের দাম। বিশেষ করে রুই, কাতল, চিংড়ি, পাবদা ও ইলিশের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে বলে অভিযোগ করছেন অনেকেই। বাজারে তুলনামূলক কম দামের মাছ থাকলেও অধিকাংশ পরিবারের পছন্দের মাছ কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচের মুখে পড়তে হচ্ছে।
আজ শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শ্যামবাজার ও আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে প্রতি কেজি তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা দরে। চাষের কই মাছের দাম ২২০ টাকা, চেওড়া ২৫০ টাকা এবং পাঙাশ ২৫০ থেকে ২৭০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। সিলভার কার্প ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং মিরর কার্প ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
মাঝারি আকারের পাবদা মাছের দাম ৪৫০ টাকা কেজি। পোয়া মাছ আকারভেদে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং টেংরা মাছ ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। শিং মাছের দাম ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং মাগুর মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
বাজারে রুই ও কাতল মাছের দামও বেশ চড়া। আকার ও মানভেদে এসব মাছ প্রতি কেজি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের কাতল মাছের ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও ৬৫০ টাকা পর্যন্ত দাম চাওয়া হচ্ছে। চাষের চিংড়ি ৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বড় আকারের গলদা চিংড়ির দাম ১ হাজার টাকা থেকে ১৫০০ টাকা।
মাছের বাজারে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ইলিশ। ছোট আকারের ইলিশ ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, মাঝারি আকারের ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং বড় আকারের ইলিশ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে মাছের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়লে দামে কিছুটা স্বস্তি আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আপাতত রাজধানীর মাছের বাজারে উচ্চমূল্যের চাপই বেশি অনুভব করছেন ক্রেতারা।
যাত্রাবাড়ী আড়তে মাছ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘সবজির বাজার কিছুটা সহনীয় হলেও মাছ কিনতে গেলে বাজেট নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আগে যে টাকায় দুই কেজি মাছ কেনা যেত, এখন সেই টাকায় এক কেজিও পাওয়া কঠিন।’
শনিরআখড়ার গৃহিণী হাপসা বেগম বলেন, ‘বাচ্চাদের জন্য নিয়মিত মাছ কিনতে হয়। কিন্তু দাম এত বেশি যে এখন পরিমাণ কমিয়ে কিনছি। ইলিশ কেনার কথা তো চিন্তাই করতে পারি না।’
মাছ বিক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বৃষ্টির মৌসুম শুরু হলেও সব ধরনের মাছের সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক হয়নি। আড়ত থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরা বাজারেও দাম বেশি।’
আরেক মাছ ব্যবসায়ী জাহিনুর ইসলাম বলেন, ‘কয়েক ধরনের মাছের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। তবে সামনে নদী ও খামারের মাছ বেশি আসতে শুরু করলে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে।’





















