ধর্ম

মৃত্যুর আগে নিজেকে প্রস্তুত করবেন যে ৩ উপায়ে

  প্রতিনিধি ৯ জুলাই ২০২৬ , ১:২৯:৩১ প্রিন্ট সংস্করণ

মানুষের জীবনে অনেক কিছুই অনিশ্চিত। কেউ জানে না আগামীকাল কী ঘটবে, কতদিন বাঁচবে কিংবা ভবিষ্যতে কী অপেক্ষা করছে। তবে একটি বিষয় শতভাগ নিশ্চিত একদিন প্রত্যেক মানুষকেই মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে। পৃথিবীর ক্ষমতা, সম্পদ কিংবা মর্যাদা কোনোটিই মৃত্যুকে ঠেকাতে পারে না।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত সবাই তার কাছেই ফিরে যাবে। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, মানুষ পৃথিবীর যেখানেই অবস্থান করুক না কেন, এমনকি মজবুত দুর্গের ভেতরেও থাকুক, নির্ধারিত সময়ে মৃত্যু তাকে খুঁজে নেবেই।

প্রশ্ন হলো, জীবন ও মৃত্যুর এই ধারাবাহিকতার উদ্দেশ্য কী? কোরআন এ প্রশ্নেরও স্পষ্ট উত্তর দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা জীবন ও মৃত্যুকে সৃষ্টি করেছেন মানুষের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য কে সবচেয়ে উত্তম আমল করে, তা দেখার উদ্দেশ্যে। অর্থাৎ পৃথিবীর জীবন চূড়ান্ত গন্তব্য নয়; এটি পরকালের প্রস্তুতির ক্ষেত্র।

আমরা যখন কয়েক দিনের জন্য কোথাও ভ্রমণে যাই, তখনও কত পরিকল্পনা করি। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখি, সময়সূচি ঠিক করি এবং যাত্রার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিই। অথচ যে সফরটি একবার শুরু হলে আর কখনো ফিরে আসা যাবে না, সেই চিরস্থায়ী যাত্রার জন্য আমরা কতটা প্রস্তুত? সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো, মৃত্যুর সময় সম্পর্কে কেউই জানে না। এটি যেকোনো মুহূর্তে এসে যেতে পারে।

দুনিয়ার জীবন খুবই অল্প সময়ের। কিন্তু পরকালের জীবন অনন্ত। সেখানে জান্নাতের পুরস্কার কিংবা জাহান্নামের শাস্তি দুটিই চিরস্থায়ী। তাই একজন সচেতন মুমিনের উচিত দুনিয়াকে উদ্দেশ্য নয়, বরং পরকালের সফলতার মাধ্যম হিসেবে দেখা।

কিয়ামতের একটি নামইয়াওমুল হাসরাহ, অর্থাৎ আফসোসের দিন। সেদিন অনেকেই এমন কাজের জন্য অনুতপ্ত হবে, যেগুলো দুনিয়ায় খুব সহজেই করা যেত। হয়তো একটি নামাজ, একটি সদকা, একটি ক্ষমা কিংবা একটি ছোট নেক আমলই জান্নাতের পাল্লা ভারী করতে পারত। কিন্তু তখন আর ফিরে এসে ভুল সংশোধনের কোনো সুযোগ থাকবে না।

তবে পরকালের প্রস্তুতি মানেই একদিনে অসংখ্য নেক আমল শুরু করা নয়। ইসলাম ধারাবাহিক ও স্থায়ী আমলের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়। তাই ধীরে ধীরে নিজেকে পরিবর্তনের চেষ্টা করাই সবচেয়ে কার্যকর। এ ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

প্রথমত, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়মিত আদায় করা এবং নামাজে একাগ্রতা ও বিনয় আনার চেষ্টা করা। কারণ কোরআনে সফল মুমিনদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে নামাজে খুশু-খুজুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, নিজের খারাপ অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে ত্যাগ করা। একসঙ্গে সবকিছু পরিবর্তনের চেষ্টা না করে প্রতিটি নেতিবাচক অভ্যাসের জায়গায় একটি ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তুললে পরিবর্তন স্থায়ী হয়। যেমন কৃপণতার পরিবর্তে দানশীলতা, রাগের পরিবর্তে ধৈর্য এবং অহংকারের পরিবর্তে বিনয় চর্চা করা।

তৃতীয়ত, সৎ ও দ্বীনদার মানুষের সঙ্গ গ্রহণ করা। কারণ মানুষের চরিত্র ও চিন্তাধারার ওপর তার বন্ধুদের গভীর প্রভাব পড়ে। ভালো পরিবেশ একজন মানুষকে নেক কাজের প্রতি উৎসাহিত করে, আর খারাপ পরিবেশ তাকে ধীরে ধীরে গুনাহের দিকে টেনে নেয়।

একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। তিনি যা পছন্দ করেন, তা ভালোবাসা এবং তিনি যা অপছন্দ করেন, তা থেকে দূরে থাকাই প্রকৃত ঈমানের পরিচয়। আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার সঙ্গে তাঁর রহমতের আশা এবং শাস্তির ভয় এই তিনটি অনুভূতির ভারসাম্যই একজন মুমিনকে সঠিক পথে রাখে।

তাই আজই নিজেকে প্রশ্ন করা প্রয়োজন যদি আজই জীবনের শেষ দিন হয়, তবে আমরা কি আমাদের রবের সামনে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত? এখনও সময় আছে নিজের ভুলগুলো সংশোধন করার, নেক আমল বাড়ানোর এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে ফিরে আসার।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে মৃত্যুর আগে আন্তরিক তাওবা করার, আমল সুন্দর করার এবং পরকালের সফলতার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আরও খবর

Sponsered content