প্রতিনিধি ২৩ জুলাই ২০২৬ , ২:০২:০১ প্রিন্ট সংস্করণ
ভারতে চলমান জেন-জি আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পুনরায় অংশগ্রহণ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নতুন ধরনের নজরদারি ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় থানাগুলো থেকে বিক্ষোভকারীদের ফোন করা, হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন পাঠাতে বলা এবং বাড়িতে গিয়ে সতর্ক করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সমর্থিত শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রভাব মুম্বাইয়েও ছড়িয়ে পড়েছে। শিবাজি পার্ক, চেম্বুর ও আজাদ ময়দানসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
যেসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আগে মামলা হয়েছে বা আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তাদের কয়েকজনের দাবি, স্থানীয় থানা থেকে ফোন করে বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু স্ক্রিনশটেও দেখা গেছে, কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা বিক্ষোভকারীদের নিয়মিত লাইভ লোকেশন শেয়ার করতে বলেছেন।
বাড়িতে গিয়ে সতর্ক করছে পুলিশ
শুধু ফোন বা বার্তা পাঠানো নয়, মুম্বাই ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের বাড়িতেও পুলিশ পাঠানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে চলমান তদন্ত সম্পর্কে জানানো হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে জনসমাবেশে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বিক্ষোভস্থলের দিকে যাতায়াত ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো ও রেলস্টেশনগুলোতেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নিতে পারে এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
আগে আটক হওয়া ব্যক্তিদের তথ্যও বিভিন্ন থানায় পাঠানো হয়েছে। এর ফলে তল্লাশি বা নজরদারির সময় তাদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পুলিশের দাবি, পদক্ষেপগুলো ‘প্রতিরোধমূলক’
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব পদক্ষেপকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের বক্তব্য, তরুণদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হলে ভবিষ্যতে পাসপোর্ট পাওয়া, উচ্চশিক্ষায় ভর্তি কিংবা চাকরির ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের এমন পরিস্থিতি থেকে দূরে রাখতেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
তবে আন্দোলনকারীদের পক্ষে থাকা আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীরা পুলিশের এই ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে লাইভ লোকেশন চাওয়া, যোগাযোগের ওপর নজরদারি এবং বাড়িতে গিয়ে সতর্ক করার মতো পদক্ষেপ সাধারণ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
তাদের মতে, এ ধরনের নজরদারি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরার সাংবিধানিক অধিকারের ওপর গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।
দিল্লির আন্দোলনের প্রভাব মুম্বাইয়েও
দিল্লিতে সিজেপির নেতৃত্বে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বুধবার টানা তৃতীয় দিনের মতো মুম্বাইয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শিক্ষার্থী ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। অন্যদিকে, দিল্লির যন্তর মন্তরেও বৃহস্পতিবার সিজেপি সমর্থকদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত ছিল। আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে নিট-ইউজি ২০২৬সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।





















