শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন

উপাচার্য বিতর্কে বারবার আলোচনায় বেরোবি, কাঠামোগত সংকটে প্রশ্নের মুখে প্রশাসন

  রুশাইদ আহমেদ, বেরোবি প্রতিনিধি: ২১ মে ২০২৬ , ৯:২৭:৪৭ প্রিন্ট সংস্করণ

চলতি বছরের অক্টোবরে দেড় যুগে পা রাখতে যাচ্ছে ‘উত্তরের বাতিঘর’ খ্যাত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর উত্তরাঞ্চলের একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নানা সংকট ও চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে এগিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়টি ইতিবাচক অর্জনের চেয়ে প্রশাসনিক বিতর্ক, নিয়োগ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বেশি আলোচনায় এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ছয়জন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, আর্থিক দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ ওঠে। এমনকি সাবেক কয়েকজন উপাচার্য দুর্নীতি ও অন্যান্য অভিযোগে আইনি জটিলতায়ও জড়িয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বেরোবির প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতা, রাজনৈতিক প্রভাব, শিক্ষক রাজনীতি এবং নিয়োগ ও পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন বলয় দীর্ঘদিন ধরে সংকটকে জটিল করেছে। অনেকের মতে, উপাচার্য নিয়োগে প্রশাসনিক দক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনা বেশি গুরুত্ব পাওয়ায় বিতর্কের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ধারাবাহিক প্রশাসনিক অস্থিরতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। এর ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রা প্রত্যাশিত গতি পাচ্ছে না।

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারজানা জান্নাত তোশি মনে করেন, দীর্ঘ সময় পূর্ণাঙ্গ প্রশাসন না থাকা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বড় সমস্যা। তাঁর মতে, শিক্ষক নিয়োগ, স্থায়ীকরণ ও পদোন্নতির বিষয়গুলোও অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

এ বিষয়ে বেরোবির সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর চৌধুরী বলেন, কোনো উপাচার্য এককভাবে সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন না। সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কমিটির কার্যকর ভূমিকা থাকলে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি প্রশাসনিক জবাবদিহি ও কার্যকর তদারকি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আরও খবর

Sponsered content