প্রচ্ছদ

‘পারমাণবিক প্রতিবেশীদের যুদ্ধের আশঙ্কায় বিশ্বের চিন্তিত হওয়া উচিত’

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক ২৬ এপ্রিল ২০২৫ , ১০:০৮:২৫ প্রিন্ট সংস্করণ

জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলাকারীদের সন্ধানে অভিযানে নেমেছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। বন্দুক হামলার পর জম্মু-কাশ্মীর জুড়ে কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সীমান্তে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) বরাবর এ গোলাগুলি হয়।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘দুটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে সংঘর্ষ সর্বদা উদ্বেগজনক…যদি পরিস্থিতি খারাপ হয়, তবে এই সংঘর্ষের একটি দুঃখজনক পরিণতি হতে পারে।’

পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় নতুন উত্তেজনার আশঙ্কায় এরইমধ্যে ভারতীয় শেয়ার বাজারের পতন ঘটেছে। গত মঙ্গলবার পর্যটকদের জনপ্রিয় গন্তব্য পাহাড়ি ও মনোরম এই এলাকায় এক মর্মান্তিক হামলায় কমপক্ষে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার দিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে খাজা আসিফ বলেন, দুটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশের মধ্যে পূর্ণ মাত্রার সংঘর্ষের সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্বকে ‘চিন্তিত’ হওয়া উচিত।

ব্রিটিশ স্কাই নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ভারতের অবৈধভাবে অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে (আইআইওজেকে) মারাত্মক গুলিবর্ষণের কারণে ভারতের সাথে উত্তেজনা ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।

আসিফ জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রস্তুত। ভারত যা-ই শুরু করুক না কেন, আমরা আমাদের প্রতিক্রিয়া পরিমাপ করব। এটি একটি পরিমাপিত প্রতিক্রিয়া হবে, যদি কোনও সর্বাত্মক আক্রমণ বা অনুরূপ কিছু হয়, তবে অবশ্যই একটি সর্বাত্মক যুদ্ধ হবে।

তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, পরিস্থিতি এখনও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে।

দুই প্রতিবেশীর উত্তেজনায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত কিনা জানতে চাইলে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইতিবাচক উত্তর দেন। সীমান্তে গুলি চালানোর জন্য তিনি ভারতকে দায়ী করেছেন কিনা জানতে চাইলে, আসিফ বলেন: ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। তারা এই পরিস্থিতি তৈরি করে।’

ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সত্ত্বেও তিনি আরও বলেন, আমাদের আলোচনার মাধ্যমে আমাদের সমস্যা সমাধান করা উচিত।

এর আগে আসিফ বলেছিলেন, পাকিস্তানের সাথে এর কোনও সম্পর্ক নেই, কারণ পাকিস্তান সব ধরণের এবং সর্বত্র সন্ত্রাসবাদকে প্রত্যাখ্যান করে। তিনি আরও বলেন, ভারতের উচিত পেহেলগাম ঘটনার তদন্ত করা, কারণ কেবল অভিযোগ করলেই তারা দায়মুক্ত হবে না।

এদিকে, শুক্রবার সিনেট সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে এবং ভারতের যেকোনো দুঃসাহসিক কাজের দৃঢ়, দ্রুত এবং সিদ্ধান্তমূলক প্রতিক্রিয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সোমবারও এই বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখবে সিনেট। ইসলামাবাদ জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগাম হামলার সঙ্গে পাকিস্তানকে যুক্ত করার ভারতের সব অযৌক্তিক এবং ভিত্তিহীন প্রচেষ্টাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

এমআই

আরও খবর

Sponsered content