সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ১৭ এপ্রিল ২০২৬ , ৩:২১:৫৫ প্রিন্ট সংস্করণ
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের প্রায় ১০ বিঘা কৃষিযোগ্য জমি লিজ দেওয়ার বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ধানক্ষেতের একটি অংশে বোটানিক্যাল গার্ডেন উদ্বোধন নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাশেম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের জন্য (১ বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র) ১০ বিঘা জমি লিজ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে আগামী ২৩ এপ্রিল শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনে উন্মুক্ত ডাকের আয়োজন করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন গ্রুপে শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা। তাদের অভিযোগ, মহিলা হোস্টেলের নিরাপত্তার কথা বলে কয়েক বছর ধরে ১০ থেকে ১৩ বিঘা জমি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে ধান চাষ করা হচ্ছে, ফলে ক্যাম্পাসের উন্মুক্ত পরিবেশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
শিক্ষার্থীদের মতে, এতে খেলার মাঠের পরিধি কমে গেছে, খেলাধুলা ব্যাহত হচ্ছে এবং গ্রুপ স্টাডি ও সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার অভাব দেখা দিয়েছে।
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী বখতিয়ার হোসেন বলেন, “নিরাপত্তার অজুহাতে এত বড় এলাকা বন্ধ রাখা ঠিক নয়। এর কিছু অংশ শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা উচিত। ধানক্ষেতের বদলে ফুলের বাগান বা সৌন্দর্যবর্ধনমূলক উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।”
এদিকে বৃহস্পতিবার কলেজ প্রাঙ্গণে ধানক্ষেতের একটি অংশে বোটানিক্যাল গার্ডেন উদ্বোধন করেন অধ্যক্ষ। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, সমালোচনার মুখে পড়ে তড়িঘড়ি করে গার্ডেনের সাইনবোর্ড স্থাপন ও উদ্বোধন করা হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, গার্ডেনের আয়তন, ব্যবহারের নীতিমালা ও শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি বাকি জমি ভবিষ্যতে আবার লিজ দেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
অন্যদিকে অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাশেম বলেন, কলেজের প্রায় ৯০ বিঘা জমির মধ্যে মাত্র ১০ বিঘা অব্যবহৃত জমি লিজ দেওয়া হয়েছে। এতে সরকার রাজস্ব পাচ্ছে এবং কলেজও আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছে। তিনি জানান, এসব জমিতে ধান ও সরিষা উৎপাদনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত মাঠ রয়েছে এবং উন্মুক্ত জায়গা সংকুচিত হওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। তার মতে, অব্যবহৃত জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।
জমি লিজ, ধান চাষ এবং বোটানিক্যাল গার্ডেনকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের ভিন্ন অবস্থান তৈরি হওয়ায় ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের প্রত্যাশা করছেন।




















