রবিউল হোসেন , লালমাই, কুমিল্লা ৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ১১:২৯:১০ প্রিন্ট সংস্করণ
কুমিল্লার লালমাই উপজেলার তুলাতলী বেলঘর ডাকঘরের অন্তর্গত ইছাপুরা গ্রামে অবস্থিত ইছাপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একসময় ছিল এলাকার অন্যতম জনপ্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে বর্তমানে বিদ্যালয়টি চরম অবহেলা ও অনিয়মের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ২০০০ সালে ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া বিদ্যালয়টির বাস্তবায়নকারী সংস্থা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। অথচ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একাধিক শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে এবং নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম প্রায় বন্ধ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নেই। কখনো শিক্ষক আসেন, কখনো আসেন না—এমন অনিয়মে অভিভাবকদের আস্থা হারিয়ে গেছে। একসময় যেখানে এক থেকে দুই হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করত, সেখানে বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ১০ জনে।
বর্তমানে বিদ্যালয়ে একজন প্রধান শিক্ষকসহ মোট তিনজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন নারী শিক্ষক। কিন্তু শিক্ষার্থীর অভাবে পাঠদান কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বিদ্যালয়ে সঠিকভাবে পাঠদান না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে পাশের একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘হাফেজিয়া মাদ্রাসা’-তে ভর্তি হচ্ছে। বর্তমানে গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ওই মাদ্রাসাতেই পড়াশোনা করছে।
সচেতন মহলের মতে, এভাবে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়টি অবহেলিত থাকলে তা সরকারের সম্পদের চরম অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। অনেকেই বলছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বিদ্যালয়টি বন্ধ ঘোষণা করাই যুক্তিযুক্ত হবে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।





















