খেলাধুলা

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে যত রেকর্ড

  প্রতিনিধি ১৭ আগস্ট ২০২৬ , ৯:৫৫:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইনে ৯ উইকেটের জয়টি বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস লিখেছে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় দুটি টেস্ট খেললেও দুটিতেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৭ টেস্টে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। প্রথম জয়টি এসেছিল ২০১৭ সালে মিরপুরে।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সফরকারী দল হিসেবে বাংলাদেশের চেয়ে কম ম্যাচে টেস্ট জিতেছে কেবল ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ড দ্বিতীয় প্রচেষ্টাতেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জয় পেয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকাও তৃতীয় প্রচেষ্টায় প্রথম জয় পেয়েছিল।

১০৭৫ — ডারউইন টেস্ট শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের বোলারদের মোট উইকেটের ব্যবধান ছিল ১০৭৫। হারতে যাওয়া দলের বোলার ও জয়ী দলের বোলারদের উইকেটের ব্যবধান এর চেয়ে বেশি হয়েছে মাত্র দুবার। ২০২৪ সালে পার্থে ভারত অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর সময় ব্যবধান ছিল ১২৪৭ এবং একই বছর ব্রিসবেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর সময় ব্যবধান ছিল ১১১১।

৩ — গত ১৫ বছরে টস জিতে ঘরের মাঠে টেস্ট হেরেছে অস্ট্রেলিয়া মাত্র তিনবার। বাকি দুটি হার এসেছিল ২০২০-২১ মৌসুমে মেলবোর্ন ও গাব্বায় ভারতের বিপক্ষে।

ডারউইনে বাংলাদেশের কাছে হারটি টস জেতার পর অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টেস্ট হারও। এর আগে ২০২৩ সালের অ্যাশেজে ওভাল টেস্টে টস জিতে হেরেছিল তারা। এরপর টানা নয়টি টেস্টে টস জিতে প্রতিবারই ম্যাচ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া।

১০ — অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের পেসাররা ১০টি উইকেটই শিকার করেন। টেস্টে বাংলাদেশের পেসারদের এক ইনিংসে প্রতিপক্ষের সবকটি উইকেট নেওয়ার ঘটনা এটি মাত্র দ্বিতীয়বার।

ডারউইন টেস্টের দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের পেসাররা নেন ১৪টি উইকেট। টেস্টে এক ম্যাচে তাদের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের সঙ্গে এটি যৌথভাবে সর্বোচ্চ।

৯ উইকেটে ১১১ রান — ডারউইন টেস্টে হাসান মাহমুদের ম্যাচের মোট বোলিং সাফল্য। টেস্টে বাংলাদেশের কোনো পেসারের দ্বিতীয় সেরা ম্যাচসেরা বোলিং পরিসংখ্যান এটি। প্রথম ইনিংসে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নেওয়া হাসানের বোলিং পরিসংখ্যান বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে এক ইনিংনে তৃতীয় সেরা।

অস্ট্রেলিয়ায় নিজের অভিষেক টেস্টে কোনো সফরকারী ক্রিকেটারের তৃতীয় সেরা বোলিং পরিসংখ্যানও হাসানের। ১৯৯০ সালে মেলবোর্নে ওয়াসিম আকরাম এবং ১৯২৪ সালে সিডনিতে মরিস টেট ১১টি করে উইকেট নিয়েছিলেন।

১৯৮ — ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে এটিই অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট না করে পরে ব্যাট করার ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের প্রথম ইনিংসে এটিই সর্বনিম্ন সংগ্রহ।

২০১৯ — অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পুরুষদের টেস্টে কোনো সফরকারী স্পিনার সর্বশেষ পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন এই বছর। সিডনিতে ভারতের কুলদীপ যাদব সেই কীর্তি গড়েছিলেন। এরপর ডারউইনে মেহেদী হাসান মিরাজ পাঁচ উইকেট নিয়ে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটান।

২০১৩ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সফরকারী স্পিনারদের মধ্যে কুলদীপ ও মেহেদীই পাঁচ উইকেট নেওয়া একমাত্র দুই বোলার। ২০০০ সালের পর সফরকারী অফ স্পিনারদের মধ্যে মেহেদী ছাড়া একমাত্র গ্রায়েম সোয়ান অস্ট্রেলিয়ায় পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন। ২০১০ সালে অ্যাডিলেডে সেই কীর্তি গড়েন তিনি।

ডারউইনে মেহেদী হাসান মিরাজ অর্ধশতকও করেন। একই টেস্টে অর্ধশতক ও পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি এটি তার চতুর্থবার। দেশের বাইরে এমন কীর্তি তার দুবার। বাংলাদেশের হয়ে সাকিব আল হাসানও দেশের বাইরে একই কীর্তি গড়েছেন দুবার।

৩৩ — অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঘরের মাঠে টেস্টে প্রথম শতক পাওয়ার আগে ক্যামেরন গ্রিন খেলেছেন ৩৩ ইনিংস। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট শতক পেতে এর চেয়ে বেশি ইনিংস খেলেছেন মাত্র দুজন। ইয়ান হিলি ৪১ ইনিংস এবং বব সিম্পসন ৩৬ ইনিংস নিয়েছিলেন।

৯ — অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্টে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করা নবম বোলার জশ হ্যাজলউড। তার আগে এই কীর্তি গড়া আটজনের মধ্যে তিনজনই ডারউইন টেস্টে ছিলেন—নাথান লায়ন, মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্স। ফলে প্রথমবারের মতো কোনো টেস্টের একাদশে অস্ট্রেলিয়ার চারজন বোলারকে দেখা গেল, যাদের প্রত্যেকের টেস্ট উইকেট সংখ্যা ৩০০ বা তার বেশি।

৩ — দেশের বাইরে অধিনায়ক হিসেবে নাজমুল হোসেন শান্তর টেস্ট জয় এখন তিনটি। বাংলাদেশের কোনো অধিনায়কের দেশের বাইরে এটি সর্বোচ্চ টেস্ট জয়। তার আগের দুটি জয় এসেছিল ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে।

শান্ত বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল টেস্ট অধিনায়কও। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জিতেছে মোট নয়টি টেস্ট। দেশের মাটিতে তার নেতৃত্বে জয় ছয়টি।

৬ — অধিনায়ক হিসেবে প্যাট কামিন্সের কাছে টেস্টে হারানো দলের সংখ্যা এখন আট প্রতিপক্ষের মধ্যে ছয়টি। অস্ট্রেলিয়ার কোনো অধিনায়কের জন্য এটি প্রথমবারের ঘটনা। এর আগে ছয়জন অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক সর্বোচ্চ পাঁচটি দলের বিপক্ষে টেস্ট হেরেছিলেন। কামিন্সের অধিনায়কত্বে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ড এখনো অপরাজিত রয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content