সারাদেশ

কলাপাড়ায় মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ, ক্ষতি ৫ লাখ টাকা

  পটুয়াখালী প্রতিনিধি ১১ অক্টোবর ২০২৬ , ১২:৩৯:৫৩ প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে একটি মাছের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের লেমুপাড়া গ্রামে বেড়িবাঁধসংলগ্ন চার একর জমির ঘেরে এ ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া ঘের থেকে প্রায় ২ লাখ টাকার মাছ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন মাছচাষিরা।

মাছচাষিদের অভিযোগ, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টা থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা ঘেরে প্রবেশ করে বিষ প্রয়োগ করে। এতে রুই, কাতলা, গ্লাস কার্প, মৃগেল, চিংড়ি, কোরাল ও বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘেরের পানিতে মরা মাছ ভেসে রয়েছে। কিছুক্ষণ পরপর আরও মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠছে। এ ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মাছচাষিরা।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও মঞ্জু সিকদার ও সজীব তালুকদার ওই ঘেরে মাছ চাষ করছেন। ঘটনার খবর পেয়ে ঘেরের কাছে গিয়ে তাঁরা মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখেন। পরে কিছু মাছ সংগ্রহ করেন।

ঘেরের মাছচাষি সজীব তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার রাতে ঘের পাহারা দেওয়ার সময় হঠাৎ পানিতে কিছু ছিটানোর শব্দ শুনতে পান তিনি। চারদিকে আলো ফেললে বকু তালুকদার, মুসফিক তালুকদার, জাহাঙ্গীর হোসেন, ফোরকান মাঝি ও আনোয়ার গাজীকে ঘেরে ওষুধ প্রয়োগ করতে দেখেন বলে দাবি করেন তিনি।

সজীব তালুকদার আরও বলেন, পরে স্থানীয় আরও দুজনকে ডেকে অভিযুক্তদের আটকানোর চেষ্টা করেন। তবে তাঁদের হাতে দেশীয় অস্ত্র থাকায় তাঁরা পিছু হটতে বাধ্য হন। সকালে ঘেরের মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

অপর মাছচাষি মঞ্জু সিকদার বলেন, তাঁরা ২০ বছরের বেশি সময় ধরে ওই ঘেরে মাছ চাষ করছেন। জমিজমা নিয়ে বকু তালুকদারের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরে ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মঞ্জু সিকদারের দাবি, এর আগেও বকু তালুকদার তাঁদের ঘেরে বিষ প্রয়োগ করেছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এবারের ঘটনায় তাঁদের প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে বকু তালুকদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও খবর

Sponsered content