কুমিল্লা: ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৯:০০:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ
কুমিল্লায় চিনি বোঝাই ট্রাক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে ট্রাকচালক আলাউদ্দিনকে হত্যার ঘটনায় মূলহোতা নূর হোসেনসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় লুট করা চিনি ও অপরাধে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মো. আনিসুজ্জামান, পুলিশ সুপার, কুমিল্লা জেলা পুলিশ।
তিনি জানান, রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম, ফেনী ও নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন— নোয়াখালী জেলার শুধারাম থানার ধর্মপুর এলাকার মৃত আব্দুল্লাহর ছেলে নূর হোসেন মুন্না (২৮); চট্টগ্রামের ভুজপুর থানার হারুয়াল ছরি এলাকার রূপম বরুয়ার ছেলে মিন্টু বরুয়া (৩৬); কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার আলকরা গ্রামের মফিজুর রহমানের ছেলে শাহাদাত হোসেন রকি (২৬), যার বিরুদ্ধে আগেও দুটি মামলা রয়েছে; ফেনী সদর থানার ইজ্জতপুর গ্রামের তাহেরুল ইসলামের ছেলে আমিনুল ইসলাম (৫৫);
এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার বসন্তপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেক মিয়ার ছেলে মো. বাবলু (৩৯), যার বিরুদ্ধে আগেও একটি মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত আলাউদ্দিন (৩১) চট্টগ্রাম বন্দর এলাকা থেকে প্রায় ২৭ মেট্রিক টন চিনি বোঝাই একটি ট্রাক নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা দেন। গত ১৫ জানুয়ারি রাতে কুমিল্লা–নোয়াখালী মহাসড়কের বুড়িচং–চৌদ্দগ্রাম সংলগ্ন এলাকায় ট্রাকটি নিখোঁজ হয়।
পরদিন ১৬ জানুয়ারি ভোরে চৌদ্দগ্রাম থানাধীন জগন্নাথ দীঘিরপাড় এলাকা থেকে আলাউদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। হত্যার পর ট্রাক ও চিনি লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
ঘটনার পর ট্রাকের মালিক নজরুল হোসেন বাদী হয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে জেলা পুলিশের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতাররা স্বীকার করে, লুটচক্রের মূল পরিকল্পনাকারী নূর হোসেন। তার নেতৃত্বেই চালককে হত্যা করে ট্রাক ছিনতাই করা হয় এবং পরে লুট করা চিনি বিভিন্ন স্থানে বিক্রি ও মজুত করা হয়।
পুলিশের অভিযানে প্রায় ১৯ বস্তা চিনি (প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি), খালি চিনি বস্তা, প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত দুটি ইলেকট্রিক মেশিনসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, এটি একটি সুসংগঠিত অপরাধচক্র। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।




















