সারাদেশ

জমি বিরোধের জেরে ৪ একর সরিষা ক্ষেত ধ্বংসের অভিযোগ, থানায় মামলা

  মোঃ শাহ্ আলম মন্ডল, দিনাজপুর প্রতিনিধি ৩ জানুয়ারি ২০২৬ , ১১:০৩:৩২ প্রিন্ট সংস্করণ

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার মুকুন্দপুর ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামের পাশে বেড়াখাই মৌজায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ৪ একর জমিতে রোপিত সরিষা ক্ষেত পাওয়ার ট্রিলার দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে।

থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিরামপুর উপজেলার জোতবানী ইউনিয়নের জোতমাধব গ্রামের বাসিন্দা রহমত আলী জাকির ও হাবিবুর রহমান পার্শ্ববর্তী মুকুন্দপুর ইউনিয়নের বেড়াখাই মৌজায় পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ৫ দশমিক ১২ একর জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে ফসল চাষ করে আসছেন। চলতি রবি মৌসুমে তারা ওই জমির মধ্যে ৪ একর জমিতে সরিষা রোপণ করেন। সম্প্রতি সরিষার চারা বড় হতে শুরু করে।

অভিযোগে বলা হয়, গত শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মুকুন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মুকুন্দপুর গ্রামের কয়েকজন চিহ্নিত ব্যক্তি পূর্বশত্রুতার জেরে তীর-ধনুক ও ধারালো অস্ত্রসহ পাওয়ার ট্রিলার নিয়ে এসে জোরপূর্বক ৪ একর জমির সরিষা ক্ষেত মাড়িয়ে নষ্ট করে জমি চাষ শুরু করে। এ সময় ভুক্তভোগীরা বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাদের ভয়ভীতি দেখায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান জানান, তাদের জমির দলিল, খাজনা-খারিজ ও মাঠপর্চাসহ সব বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। অথচ দক্ষিণ মুকুন্দপুর গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করছে। ৪ একর জমিতে সরিষা চাষে এ পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রতিবার ফসল আবাদ করতে গেলে তারা গন্ডগোল করে ফসল নষ্ট করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

এ ঘটনায় হাবিবুর রহমানের ভাই রহমত আলী জাকির ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫–২০ জনকে আসামি করে বিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাজেদ আলী বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

অন্যদিকে অভিযোগপত্রে উল্লেখিত ১ নম্বর বিবাদী সাঈদ ইবনে সামাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, বেড়াখাই মৌজার ওই জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে উভয় পক্ষের মামলা চলমান রয়েছে। তিনি জমিটি তাদের ভোগদখলীয় দাবি করে বলেন, সেখানে কোনো সরিষা আবাদ করা হয়নি; জমিতে ঘাস জন্মানো থাকায় ধান চাষের উদ্দেশ্যে জমি চাষ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কমল কৃষ্ণ রায় বলেন, “জমির মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ফসল নষ্ট করা অমানবিক কাজ। এ ধরনের অপকর্মে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।”

আরও খবর

Sponsered content