প্রতিনিধি ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৪:৫০:১৭ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা ও মেয়ে হত্যার ঘটনায় গৃহকর্মী আয়েশাকে ঝালকাঠি থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গৃহিণী লায়লা আফরোজ ও তার মেয়ে নাফিসা আজিজকে হত্যার পর আয়েশা তার স্বামীকে ফোন করে বিষয়টি জানান। ওই গৃহকর্মীকেপালাতে সহায়তা করেন তার স্বামী রাব্বী।
স্বামীর পরামর্শেই পোশাক পাল্টে নিহত নাফিসার স্কুল ইউনিফর্ম পড়ে মুখ ঢেকে বহুতল ওই আবাসিক ভবন থেকে বেরিয়ে আসেন আয়েশা। পুলিশের কাছে এসব কথা বলেছেন ওই গৃহকর্মী। তবে খুন করার কারণ সম্পর্কে এখনও মুখ খোলেননি।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের এডিসি মোহাম্মাদ জুয়েল রানা এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, নলছিটির দাদা শ্বশুরের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। খুনের পর আয়েশা তার স্বামী রাব্বীকে হত্যার বিষয়ে জানালে ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে আসার কৌশল বলে দেন। বহুতল ওই আবাসিক ভবন থেকে বেরিয়ে আসার পর আয়েশাকে নিয়ে ঢাকা ছেড়ে পালিয়ে যান স্বামী রাব্বী।
এডিসি জুয়েল রানা জানান, মা-মেয়ে হত্যার ৬ মাস আগে মোহাম্মদপুরের বছিলার একটি বাসায় চুরি করেছিল আয়েশা। ওই সময় তার ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের সূত্র ধরে আয়েশার খোঁজ শুরু করে পুলিশ। অবশেষে সকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, মা ও মেয়েকে খুন করার কারণ সম্পর্কে এখনো কিছু বলেননি গৃহকর্মী আয়েশা।জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যাবে হত্যার কারণ।
উল্লেখ্য, সোমবার সকালে শাহজাহান রোডের ১৪ তলা একটি আবাসিক ভবনের সপ্তম তলায় গৃহকত্রী লায়লা আফরোজ ও তার মেয়ে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিয়াকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটে। এই হত্যার ঘটনায় অন্যতম সন্দেহভাজন ছিল গৃহকর্মী আয়েশা। ঘটনার দিন সকাল ৭টা ৫২ মিনিটে বোরকা পরে বাসায় ঢোকে সে। আর সাড়ে ৯টার নাগাদ মা-মেয়েকে খুন করে মেয়ে নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে যায়। এই জোড়া খুনের ঘটনায় সোমবার রাতে নিহত লায়লা আফরোজের স্বামী আজিজুল ইসলাম মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন।




















