মো: সাকিব চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:২২:০৪ প্রিন্ট সংস্করণ
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের) বলেছেন, দেশের প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী সরকারের নিয়োগকর্তা বৈষম্যবিরোধী নেতারা, যারা পরবর্তীতে এনসিপি গঠন করেছেন। তারাই বর্তমানে সরকারি দল। তাদের অধীনে নির্বাচন হচ্ছে। তাই নির্বাচন ব্যবস্থায় কোনো নিরপেক্ষতা দেখছি না। সরকার ও সরকারি দল মিলে প্রহসনমূলক নির্বাচন করে রাষ্ট্র দখল করতে চায়। রাষ্ট্র নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র আমরা আর মেনে নেব না।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর সেন্ট্রাল রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে লাঙলের প্রচারণা শুরুর আগে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
জিএম কাদের বলেন, নানা বাধা-বিপত্তির মুখে আমরা নির্বাচনে এসেছি। তারা আমাদের দলকে ভাগ করার চেষ্টা করেছিল, নির্বাচন থেকে সরে দিতে চেয়েছিল, আমরা তা রুখে দিয়েছি। আমাদের প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিয়ে জেলে রাখা হচ্ছে, কোনো জামিন হচ্ছে না। উল্টো আরও মামলা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের নির্বাচনে বাধা দেওয়া হচ্ছে, রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তথাপিও আমরা আমাদের রাজনীতি করছি। দরকার হলে বুকের রক্ত দেব, তবুও আমরা আমাদের অধিকার আদায় করে ছাড়ব। আমরা মারা যাব, তবু দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করব।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ নয়, কিন্তু তাদের রাজনীতি করতে দেওয়া হচ্ছে না, যা কোনোভাবেই ঠিক নয়। তারা যদি নির্বাচনে আসতে চায়, তাদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে, অত্যাচার করা হচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগের ভোট বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি চায়। তাদের ভোট দিলে ভোট দিতে পারবে, কিন্তু জাতীয় পার্টিকে ভোট দিলে তাদের ভোট দিতে দেবে না—এমন পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। একইভাবে দেশের সংখ্যালঘুদের ওপরও অত্যাচার করা হচ্ছে, যাতে তারা ভোট দিতে না পারে। তাদেরও বলা হচ্ছে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিকে ভোট দিতে। আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি দাবি জানাচ্ছি, আমাদের যেন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করতে দেওয়া হয় এবং আমাদের ওপর যেন কোনো নির্যাতন না করা হয়।
‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট প্রসঙ্গে জিএম কাদের বলেন, গতকাল রংপুরে সরকারের একজন উপদেষ্টা বলেছেন, যারা ‘না’ ভোট চাচ্ছেন তারা স্বৈরাচারের দোসর। আমি বলতে চাই, আমরা দেশ বাঁচাতে ‘না’ ভোটের পক্ষে। আর যারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তারা নাৎসীবাদের দোসর।
রংপুরবাসীর কাছে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, আমি রংপুরের সন্তান। জাতীয় পার্টি যতদিন ক্ষমতায় ছিল, ততদিন রংপুরবাসী শান্তিতে ছিল। জাতীয় পার্টি চাঁদাবাজি, দখলবাজি করেনি, কাউকে অত্যাচার করেনি। বিএনপি-জামায়াতসহ সব দলের লোক আমার কাছে এলে সবার সঙ্গে সমানভাবে দেখা করেছি। তাই রংপুরবাসী যদি শান্তি ও স্বস্তি চায়, সুন্দরভাবে বাঁচতে চায়, তাহলে বিগত দিনের মতো আবারও জাতীয় পার্টিকে সমর্থন দেবেন এবং লাঙল মার্কায় ভোট দেবেন।
পরে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রংপুরে লাঙলের প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন তিনি। নগরীর সেন্ট্রাল রোড, পায়রা চত্বর ও জাহাজ কোম্পানিসহ বিভিন্ন মোড়ে পথচারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করে লাঙলের পক্ষে ভোট চান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আজমল হোসেন লেবু, এস এম ইয়াসীরসহ অন্যান্য নেতারা।




















