সারাদেশ

পত্নীতলায় পৈত্রিক জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ, থানায় লিখিত আবেদন

  নওগাঁ প্রতিনিধি: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৮:৪৩:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় পৈত্রিক জমি জোরপূর্বক দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. সাইদুল ইসলাম পত্নীতলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পত্নীতলা উপজেলার নোদবাটি মৌজার হাল ২৫ নম্বর খতিয়ানের ৬৮৫ দাগে অবস্থিত ২৪ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন জোরপূর্বক দখলে রেখে ভোগ করে আসছেন। জমিটি খতিয়ান অনুযায়ী সাইদুল ইসলামের বৈধ পৈত্রিক সম্পত্তি হলেও অভিযুক্তরা সেখানে চাষাবাদ করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মো. সাইদুল ইসলাম ঘোষনগর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের মৃত আফসার আলী মণ্ডলের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক।

লিখিত অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন— নোদবাটি গ্রামের মৃত মীর বক্সের ছেলে ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা ওসমান আলী মেম্বার (৫২), বকুল হোসেন (৪৭), বক্কর হোসেন (৪৬) এবং পার্শ্ববর্তী বদলগাছী উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের মৃত ইলিয়াসের ছেলে মিলন হোসেন (৩৫)।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, জমির বৈধ কাগজপত্র দেখিয়ে একাধিকবার জমিটি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও অভিযুক্তরা তাতে কর্ণপাত করেননি। সর্বশেষ গত ১২ ডিসেম্বর সকালে স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার উদ্দেশ্যে অভিযুক্তদের কাছে গেলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

তিনি আরও জানান, এর আগে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার মাধ্যমে জমিটি বুঝে নিয়ে দুই বছর ধরে চকভবানী গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিক নামে এক বর্গাদারের মাধ্যমে সেখানে চাষাবাদ করা হয়। তবে পরে অভিযুক্তরা পুনরায় জোরপূর্বক জমিটি দখলে নিয়ে আতব ধান রোপণ করেন। এ ঘটনায় মিলন হোসেন সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, জমির মালিকানা অস্বীকার করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে জমির দাবি করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাইদুল ইসলাম তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ওসমান আলী মেম্বার বলেন, “আমার বাবা মীর বক্স ১৯৬৪ সালে আফসার আলীর কাছ থেকে ওই খতিয়ানের চারটি দাগে মোট ৯০ শতক জমি ক্রয় করেন। তখন থেকেই আমরা বৈধভাবে জমিটি ভোগদখল করে আসছি।”

এ বিষয়ে পত্নীতলা থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও খবর

Sponsered content