প্রতিনিধি ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৫:০০:৪৭ প্রিন্ট সংস্করণ
কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীতে নোঙররত অবস্থায় থাকা সেন্টমার্টিনে যাতায়াতকারী পর্যটকবাহী ‘দ্যা আটলান্টিক ক্রুজ’ জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া নূর কামাল নামের জাহাজের এক কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া বাঁকখালী নদীর বিআইডব্লিউটিএ ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজারের উপ-পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত নূর কামাল (২৫) টেকনাফ দমদমিয়া বিজিবি ক্যাম্প এলাকার মোহাম্মদ ইলিয়াসের ছেলে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজারের উপ-পরিলক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, ‘সকাল ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও বেলা ১টার পর পুরোপুরি নির্বাপণ সম্ভব হয়। জ্বলন্ত জাহাজ থেকে নূর কামাল নামে জাহাজের এক কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছমি উদ্দিন বলেন, ‘সেন্টমার্টিনগামী জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।’
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সেন্টমার্টিনগামী একটি জাহাজ বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে নোঙর করা অবস্থায় ছিল। সেন্টমার্টিনের যাত্রী তোলার জন্য জাহাজগুলো সাধারণত এখানেই নোঙর করে থাকে। নোঙর করা অবস্থায় জাহাজটিতে হঠাৎ ধোঁয়া দেখা যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে তা নির্ণয়ের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এই কমিটিতে ফায়ার সার্ভিস, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, কোস্ট গার্ড ও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা থাকবেন। (শনিবার) বিকেলে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি সেন্টমার্টিনগামী সব জাহাজের ফিটনেস পুনরায় পর্যালোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
সেন্টমার্টিন পর্যটকবাহী জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ (স্কোয়াব)-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, ‘শনিবার সকাল ৭টার দিকে পর্যটক নিতে ঘাটে পৌঁছায় ‘দ্যা আটলান্টিক ক্রুজ’। সেসময় হঠাৎ জাহাজের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে দুপুর একটার দিকে পুরো আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।’
জাহাজের ইনচার্জ মো. সিরাজ উদ্দিন বলেন, ‘যাত্রী উঠানোর জন্য আমাদের আগে আরও দুইটা জাহাজ ছিল তাদের পরে আমরা যাওয়ার জন্য জাহাজে উঠতে গিয়ে কেবিন থেকে আগুনের ধোঁয়া দেখতে পাই। তখন আমি নিজে না উঠে সেখানে থাকা আমাদের স্টাফদের দ্রুত বের হয়ে যেতে বলি।’
জাহাজের ইনচার্জ বলেন, ‘জাহাজটি সকাল সাড়ে ৬টায় ১৯৪ জন যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিন রওনা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই জাহাজটিতে আকস্মিক আগুন লেগে যায়। এতে জাহাজে থাকা ১৭ জন কর্মী স্থানীয়দের সহায়তায় অন্য ট্রলারে করে নিরাপদে সরে আসেন। আগুনে জাহাজের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা কি আমরা গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। এরকম দুর্ঘটনা যাতে অন্য জাহাজগুলোতে না ঘটে সে কারণে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।’ কমিটির পর্যবেক্ষণ শেষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।




















