স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৭:২৭:৫১ প্রিন্ট সংস্করণ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ডামাডোলে সরগরম হয়ে উঠেছে যমুনা তীরবর্তী জনপদ বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি–সোনাতলা) আসন। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থীদের পদচারণায় মুখর ছিল রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। শেষ পর্যন্ত হেভিওয়েট ও নতুন মুখ মিলিয়ে এই আসনে মোট সাতজন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে নাম লিখিয়েছেন। তবে সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন বিএনপির ‘কৌশলগত’ দুই প্রার্থীর মনোনয়ন।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া-১ আসনে যারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন তারা হলেন—
সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মো. শাহাবুদ্দিন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের আশাদুল হক, গণফোরামের জুলফিকার আলী, ইসলামী আন্দোলনের এবিএম মোস্তফা কামাল পাশা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাদী আলম লিপি।
একই আসনে বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। চায়ের দোকান থেকে দলীয় বৈঠক—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন এই ‘ডাবল মনোনয়ন’। দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, এটি মূলত একটি ‘সেফটি গেম’। যাচাই-বাছাইয়ের সময় আইনি জটিলতায় যাতে কোনোভাবেই ধানের শীষ প্রার্থীশূন্য না থাকে, সেই সতর্কতা থেকেই দুই হেভিওয়েটকে মাঠে রাখা হয়েছে।
চূড়ান্তভাবে কার হাতে দলের সবুজ সংকেত যাবে—কাজী রফিকুল ইসলাম নাকি তৈয়ব জাকির—তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে দলীয় শীর্ষ মহলের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছেন সবাই।
মনোনয়নপত্র দাখিলকে ঘিরে সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। দীর্ঘ বিরতির পর বড় রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণে নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাচ্ছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর উপস্থিতি ভোটের হিসাবকে ত্রিমুখী লড়াইয়ের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চরাঞ্চলের মানুষের কাছে এবারও প্রধান ইস্যু যমুনার ভাঙন। সাধারণ ভোটারদের ভাষ্য, যারা শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বরং নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান এবং চরাঞ্চলের অবহেলিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন, ভোটের রায় যাবে তাদের পক্ষেই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বগুড়া-১ আসনের এই নির্বাচন শুধু একটি ভোটের লড়াই নয়; এটি যমুনা পাড়ের মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। এখন দেখার বিষয়, যাচাই-বাছাইয়ের বৈতরণী পার হয়ে শেষ পর্যন্ত কারা ভোটের মূল ময়দানে টিকে থাকেন।




















