ফারুক হোসেন নয়ন, বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি ৮ আগস্ট ২০২৫ , ১:১৩:২৭ প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুরের বদরগঞ্জে তিন মাসের ব্যবধানে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর (১৫) দুইবার বিয়ে হয়েছে। প্রথম ঘটনায় প্রেমিক এনামুল হক বর্তমানে কারাগারে, আর দ্বিতীয় বিয়েটি হয়েছে চলতি মাসের ২ আগস্ট। ঘটনাটি ঘটেছে বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শিবপুর এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত মাস আগে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এনামুল হকের। গত ৪ এপ্রিল তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে কোর্ট এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করে ঢাকায় চলে যান। পরে শিক্ষার্থীর বাবা বদরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
সেই মামলায় পুলিশ ঢাকা থেকে তাদের উদ্ধার করে। আদালতের নির্দেশে শিক্ষার্থীকে বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং এনামুল হককে কারাগারে পাঠানো হয়।তিন মাস পর দ্বিতীয় বিয়ে
প্রথম ঘটনার তিন মাস না যেতেই গত ২ আগস্ট সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীর বাবা-মা তাকে রংপুর শহরের পার্বতীপুর এলাকায় বিয়ে দেন। এনামুল হকের পরিবার অভিযোগ করে, বিয়ের বিষয়ে বদরগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে জানালেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। বিয়ের পর বরপক্ষ কনের বাড়ি থেকে শিক্ষার্থীকে নিয়ে যায়।
এনামুল হকের মামা মহাসিন আলী বলেন,“আমার ভাতিজার সঙ্গে মেয়েটি প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করেছিল। এরপর মেয়ের বাবা আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আমাকে, আমার চাচা ও ভাইকে ফাঁসিয়েছে। আমরা জেল খেটে জামিনে আছি। যে বাল্যবিবাহের কারণে আমাদের জেল খাটতে হয়েছে, সেই মেয়েকেই আবার বিয়ে দিয়ে দিলো তার পরিবার।”
তিনি আরও জানান, গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদে শিক্ষার্থীর ডিভোর্সের কাগজ পাঠানো হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।
মেয়ের বাবা বলেন,“আমার মেয়েকে রংপুরে বিয়ে দিয়েছি। তিন মাস আগে একটি ঘটনা ঘটেছিল, তাই দ্রুত বিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয়রা জানান, বাল্যবিবাহটি সম্পন্ন হয়েছে ওই এলাকার ইউপি সদস্য মশিউর রহমান এবং ৭ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য সবুর আলীর
গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলম জানান, “বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে সেখানে গিয়ে বিয়ের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এর আগেই বরপক্ষ মেয়েকে নিয়ে চলে গেছে বলে জানানো হয়।”




















