প্রতিনিধি ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৫:০০:৫৫ প্রিন্ট সংস্করণ
শোবিজের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। স্বামী তানজিম তৈয়বের প্রশংসা করে সম্প্রতি একটি ফেসবুক পোস্ট দেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানান, এই সময়ে এমন একজন মানুষ পাওয়া আল্লাহ’র সরাসরি নিয়ামত ছাড়া আর কিছুই নয়। যা ইতিমধ্যেই খবরের শিরোনাম হয়েছে।
এবার ফারিয়া জানালেন তার বদলে যাওয়ার কারণ। আজ রোববার এক ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, একসময় ধৈর্য কম থাকলেও করোনার পর তার স্বভাবে এসেছে বড় পরিবর্তন। আর নিজের এই বদলে যাওয়ার গল্পটাও তিনি তুলে ধরেছেন সবার সামনে।
ফারিয়া লিখেছেন, ‘আমার ধৈর্য একটু কমই ছিল আগে। যেহেতু আমি বাসায় সবার ছোট ছিলাম আর একা বড় হয়েছি, যখনই যা চাইতাম পেতাম। বেশির ভাগ সময় তো চাওয়ার আগেই পেতাম। তবে ২০২০ সালে কোভিডের পর থেকে আমার অ্যাবনরমাল লেভেলের ধৈর্য চলে এসেছে। সবকিছুতেই! আমি এখন আর কোনো কিছুতেই অল্পতে ধৈর্য হারাই না।’
উদাহরণ টেনে তিনি লিখেছেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার সবচেয়ে প্রিয় কনটেন্ট হলো কার্পেট পরিস্কার করার ভিডিও। আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কার্পেট পরিস্কার করা দেখতে পারি। আমার আরেকটা পছন্দের ভিডিও হলো হারমেস ব্যাগ কেনা-বেচার ভিডিও। একটা বারকিন বা কেলি ব্যাগের দাম আমার বাৎসরিক ইনকামের চেয়েও বেশি। এই রকম ইনকাম থাকলে জীবনে এই জিনিস কেনার কথা না (যদিও আমার জামাই বলেছে, সে একদিন না একদিন বড়লোক হবে আর আমাকে একটা বারকিন কিনে দেবে)। কিন্তু এই ব্যাগের সেকেন্ডারি মার্কেটে কেনা-বেচা দেখা আমার ডেইলি রুটিনের একটা অংশ। আমি এখন জানি, কি কি চামড়া দিয়ে এই ব্যাগ বানানো হয়, কি কি সাইজে পাওয়া যায়, কি কি হার্ডওয়্যার ব্যবহার হয়, আর “হিমালায়ান” নামে একটা বারকিন আছে যার দাম প্রায় বাংলাদেশের জিডিপির সমান!’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার আরেকটা সবচেয়ে প্রিয় কনটেন্ট হলো, একজন মানুষ একটা পুরোনো বাড়ি কিনে, নিজে নিজে আর প্রতিবেশীদের সাহায্য নিয়ে সেটার রিনোভেশন করে।’
ফারিয়ার কথায়, ‘আমার সবচেয়ে পছন্দের কনটেন্ট ক্রিয়েটরের নাম লিজিকি। ওকে দেখে ইনস্পায়ার্ড হয়ে আমি একা থাকা শুরু করেছিলাম। নিজে নিজে সব কিনতাম, বাসা গুছাতাম, বাজার করতাম, রান্না করতাম। আবার আমার কাউন্সেলরের পরামর্শে সেগুলো ভ্লগ বানানোর ট্রাইও করেছিলাম। ৩/৪টা বানিয়েছিলাম, এরপর আর সম্ভব হয়নি। এভাবে দুই বছরের একটু বেশি সময় একা থেকে বাসার সবাইকে টেনশনে ফেলে দিয়েছিলাম। তারপর আর বেশিদিন লিজিকি হওয়ার চেষ্টা করতে হয়নি, এরই মধ্যে তানজিম মিয়ার আগমন।’
সংসার জীবনের প্রসঙ্গ টেনে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘এখনও কেনাকাটা আর গুছানোর কাজটা আমাকেই করতে হয়। ট্রলি ঠেলার জন্য উনি থাকেন, ঘরের কাজের সময় আজেবাজে কাজ করে কাজ বাড়ানো কিংবা গুছানো বাসা অগোছালো করার দায়িত্বও উনার। তবে আমি অসুস্থ হলে অবশ্য জ্বালায় না বরং অনেক হেল্পই করে। কালকেই তো অনেক প্রশংসা করলাম, আর না করি।’
সবশেষ ফারিয়া লিখেছেন, ‘যাই হোক করোনাকালে আমার আরেকটা প্রিয় কনটেন্ট ছিল মানুষের খাওয়া দেখা। শুকনা-শুকনা মেয়েরা বিশাল থালায় খাবার খায়, আমি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিয়মিত সেই খাওয়ার ভিডিও দেখতাম তবে এই মুহূর্তে আমার প্রিয় কনটেন্ট রাজনৈতিক মিথ্যাচার, জানি যা বলছে সবই মিথ্যা আশ্বাস, তাও মনোযোগ দিয়ে দেখি।’











