সারাদেশ

বনানীতে টিসিবির পণ্য নিয়ে সিন্ডিকেটের দাপট, ‘ভুয়া দোকান’ দেখিয়ে ডিলারশিপের অভিযোগ

  নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ৩০ মার্চ ২০২৬ , ৯:২১:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর বনানীর ওয়্যারলেস গেইট এলাকায় টিসিবির (ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ) পণ্য বিতরণে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ডিলার মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ডধারী সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করে পণ্য কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ এখন প্রকাশ্যে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অস্তিত্বহীন দোকানের নামে ডিলারশিপ নেওয়া থেকে শুরু করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পণ্য বণ্টন—সবই চলছে প্রকাশ্যে।


টিসিবির নিয়ম অনুযায়ী ডিলারশিপ পেতে স্থায়ী মুদি দোকান থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ডিলার মেহেদীর লাইসেন্সে উল্লেখিত ‘মেহেদী জেনারেল স্টোর’-এর কোনো বাস্তব অস্তিত্ব মেলেনি। অভিযোগ রয়েছে, যথাযথ যাচাই ছাড়াই অবৈধভাবে লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে বনানীর জ-১৬৮ নম্বর বাড়ির নিচতলার একটি ফ্ল্যাটকে গুদাম হিসেবে ব্যবহার করে পণ্য বিতরণের আড়ালে চলছে নয়ছয়।


স্থানীয় সূত্র জানায়, ডিলার মেহেদীর পেছনে রয়েছে তার শ্বশুর ইদ্রিস আলীর প্রভাব। তিনি অতীতে আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সেই প্রভাব ব্যবহার করে ডিলারশিপ পাইয়ে দেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে রাজনৈতিক পরিচয় বদলালেও পণ্য বণ্টনের সিন্ডিকেট অপরিবর্তিত রয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।


সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়্যারলেস গেইট এলাকায় টিসিবির পণ্য পেতে স্বল্প আয়ের মানুষের দীর্ঘ লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেকে পণ্য পাচ্ছেন না।

অন্যদিকে একই সময় বাড়ির ভেতরে ডিলারের ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে বস্তায় ভরে পণ্য সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব পণ্য আশেপাশের দোকানে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

এছাড়া একাধিক ব্যক্তিকে ১০ থেকে ২০টি কার্ড নিয়ে লাইনের বাইরে থেকেই পণ্য নিতে দেখা গেছে। সাধারণ কার্ডধারীরা পণ্য চাইলে তাদের জানানো হচ্ছে—“পণ্য শেষ।”


লাইনে দাঁড়ানো ছকিনা বেগম (৫০) বলেন,“সকাল ৭টা থেইকা দাঁড়াইছি। এখন দুপুর। দেখি পিছন দিয়া বস্তা ভইরা মাল যাইতাছে। আমাগো চাইলে কয় মাল নাই। কার্ড থাইকাও যদি মাল না পাই, এই কার্ড দিয়া করমু কী?”


বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ভুল তথ্য দিয়ে ডিলারশিপ নেওয়া হলে বা দোকানের অস্তিত্ব না থাকলে লাইসেন্স বাতিলের বিধান রয়েছে। বনানীর ঘটনায় গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে অভিযুক্ত ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করে টিসিবির পণ্য বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হোক।

আরও খবর

Sponsered content