বনানীতে ফুটপাত উচ্ছেদ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, বিএনপি কর্মীকে ঘিরে আলোচনা
বিশেষ প্রতিনিধি: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ , ১২:৫৯:৪৩প্রিন্ট
সংস্করণ
রাজধানীর ফুটপাত ও সড়ক অবৈধ দখলমুক্ত করতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক যখন কঠোর অবস্থানের কথা ঘোষণা করেছেন, ঠিক তখনই বনানী এলাকার ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে এক বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘বেলতলা হইল ফরেন কান্ট্রি, ওইখানে কোনো রকমের উচ্ছেদ অভিযান সম্পূর্ণ নিষেধ’—এমন মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন বনানী থানা বিএনপির কথিত কর্মী সবুজ খাঁন।
অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইনজামামুল হক ফুটপাত দখলের চিত্র তুলে ধরে ফেসবুকে একটি ক্ষোভপ্রকাশক পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, “বেলতলার মোড় থেকে ওয়্যারলেস গেট সকালে অভিযান, বিকেলে আবার সেই একই রূপ। এখন তো একদম ফুটপাত পার্মানেন্ট হয়ে গেছে। লুকোচুরির নাটক আর ভালো লাগে না।” উক্ত পোস্টে বনানী থানা বিএনপির কর্মী পরিচয় দেওয়া সবুজ খাঁন উল্লিখিত বিতর্কিত মন্তব্যটি করেন।
সবুজ খাঁনের এমন মন্তব্যে খোদ রাজনৈতিক অঙ্গনেও সমালচনার ঝড় উঠেছে। ওই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বনানী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাফি আহমেদ পাল্টা লেখেন, “লে হালুয়া দে নাড়া চিনি ছাড়া… এমন কইলে পরে আওয়ামী ও নব্য বিএনপি মিলে তোমাকে শুধু সমর্থক বানিয়ে রাখবে ভাইয়া, নেতা আর বানাবে না, সিওর থাকো।”
কে এই সবুজ খাঁন?
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সবুজ খাঁন নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ও রাতারাতি বদলে ফেলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আগের একটি ছবিতে দেখা যায়, তিনি বনানী কবরস্থানে বনানী থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির নেতাদের সঙ্গে শেখ পরিবারের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে তিনি খোলস বদলে বিএনপির আশ্রয়ে রয়েছেন।
বর্তমানে তিনি বনানীর বেলতলা বস্তির একটি অংশের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সবুজ খাঁন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য আবুল কালাম আজাদের অনুসারী হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন। সবুজের ঘনিষ্ঠ আলমগীর নামক এক ব্যক্তি জানান, “সবুজ আবুল কালাম আজাদের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করে। সে প্রায়ই বলে বেড়ায়—আজাদ ভাইয়ের পিছে পিছে থাকলে প্রতিদিন অন্তত ২০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব।”
রাজনীতিতে নব্য আগমন ঘটা সত্ত্বেও সবুজ খাঁন প্রায়ই বনানী থানা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও তর্কবিতর্ক করেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। রহস্যজনক কারণে জ্যেষ্ঠ নেতারা তাঁর এই আচরণ নিরবে সহ্য করে যাচ্ছেন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বনানী থানা বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, সবুজ খাঁনের পেছনে ঢাকা মহানগর বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার ছায়া রয়েছে। ফুটপাত ও বস্তি থেকে তোলা চাঁদাবাজির একটি বড় অংশ তিনি নিয়মিত ওই প্রভাবশালী নেতার কাছে পৌঁছে দেন বলেই রাজনৈতিকভাবে তিনি এতটা প্রশ্রয় পাচ্ছেন।
রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং শৃঙ্খলা ফেরানোর সরকারি উদ্যোগের মধ্যে শাসকদলের পরিচয় ব্যবহার করে এক ব্যক্তির এমন দাপট ও বিতর্কিত মন্তব্যে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।