সারাদেশ

মান্দায় শিক্ষার্থীকে মারধর ও আইফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ, ইউপি ঘেরাও

  নওগাঁ প্রতিনিধি ৩০ অক্টোবর ২০২৬ , ১২:৪৯:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ

 

নওগাঁর মান্দায় এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রেখে মারধর ও তাঁর আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন গ্রামপুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মান্দা সদর ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে চেয়ারম্যান, সচিব ও গ্রামপুলিশ সদস্যদের কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয়রা। এ সময় অভিযুক্তদের চাকরিচ্যুতির দাবিতে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। পরে পুলিশ গিয়ে অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে মান্দা সদর ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন জয় (২৪) উপজেলার সাহাপুর মণ্ডলপাড়া গ্রামের আব্দুল জব্বার মণ্ডলের ছেলে। তিনি রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল ৩টার দিকে মোটরসাইকেলে বোর্ডঘরের রাস্তা দিয়ে ফেরিঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন জয়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা মান্দা সদর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামপুলিশ সদস্য নাজমুল ও ফিরোজের সঙ্গে মোটরসাইকেলকে সাইড দেওয়া নিয়ে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই দুই গ্রামপুলিশ সদস্য তাঁকে গালিগালাজ করে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে ব্যক্তিগত কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে আগের ঘটনার কারণ জানতে চান জয়। এ সময় নাজমুল, মোস্তাফিজুর রহমান, ফিরোজ ও মাইনুরসহ কয়েকজন গ্রামপুলিশ সদস্য তাঁকে আটকে রেখে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাঁর ব্যবহৃত আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দৃশ্য ইউনিয়ন পরিষদের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ইউনিয়ন পরিষদে জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা পরিষদ ঘেরাও করে চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, ইউপি সচিব মিজানুর রহমান ও গ্রামপুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা আহত শিক্ষার্থী জয়কে উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্ত গ্রামপুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ও তাঁদের চাকরিচ্যুতির দাবি জানান। কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চেয়ারম্যান, সচিব ও গ্রামপুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন বলেন, গ্রামপুলিশ সদস্য নাজমুল ও মোস্তাফিজুরকে ইতোমধ্যে পরিষদে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। নাজমুলের আচরণ সন্তোষজনক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কারণে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে গালিগালাজের জেরেই এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফজাল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও খবর

Sponsered content