প্রতিনিধি ৩০ জুন ২০২৬ , ১:১৭:১২ প্রিন্ট সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান দলের বিশ্বকাপ জয়ের সামর্থ্য রয়েছে বলে বিশ্বাস করেন দেশটির ফুটবল কিংবদন্তি ল্যান্ডন ডনোভান। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে একের পর এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়ে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সিএনএন স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার বলেন, ‘তারা কি বিশ্বকাপ জিততে পারে? অবশ্যই পারে। আমাদের এমন একটি দল আছে, যারা টুর্নামেন্টে অনেক দূর যেতে সক্ষম।’
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচই হবে কঠিন পরীক্ষা।
ডনোভান বলেন, ‘গ্রুপ পর্ব পেরোলেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে। শেষ ৩২-এ জিতলে আরও ভালো দলের বিপক্ষে খেলতে হবে। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে বিশ্বের সেরা আট দলের একটির মুখোমুখি হতে হবে। তারা কি এসব দলকে হারাতে পারে? হ্যাঁ, পারে। কিন্তু টানা চারটি কঠিন ম্যাচে একই মানসিক শক্তি ধরে রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’
বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ বৃহস্পতিবার বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে খেলবে যুক্তরাষ্ট্র। ডনোভানের মতে, বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে এই ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান আসরে দারুণ ছন্দে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৩০ সালের পর প্রথমবারের মতো তারা বিশ্বকাপে টানা দুটি ম্যাচ জিতে অভিযান শুরু করে। যদিও শেষ গ্রুপ ম্যাচে তুরস্কের কাছে শেষ মুহূর্তে হেরে যায় দলটি, তবু গ্রুপ ‘ডি’-এর শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেই নকআউটে উঠেছে। ২০০২ সালের পর এটিই বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সফল অভিযান।
এই বিশ্বকাপে মার্কিন দলের সবচেয়ে বড় তারকা এসি মিলানের ফরোয়ার্ড ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ। কাফ ইনজুরি কাটিয়ে তিনি এখন পুরোপুরি সুস্থ।
যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সর্বোচ্চ গোলদাতা ডনোভানের মতে, পুলিসিচই এমন একজন ফুটবলার, যিনি মুহূর্তেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।
তিনি বলেন, ‘সে এমন একজন খেলোয়াড়, যে হঠাৎ করেই কিছু করে দেখাতে পারে। বিশ্ব ফুটবলে এমন খেলোয়াড় খুব বেশি নেই। সে ভালো খেললে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের মনোযোগ তার দিকেই থাকে, ফলে অন্য খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ তৈরি হয়।’
ডনোভান মনে করেন, স্বাগতিক দর্শকদের সমর্থনও যুক্তরাষ্ট্রের বড় শক্তি হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘২০০২ সালে আমরা দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে খেলেছিলাম। স্বাগতিক দর্শকদের সমর্থনে তারা সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল, যদিও কেউ তা আশা করেনি। আমাদের সমর্থকেরাও যদি একইভাবে দলের পাশে থাকেন, তাহলে সবকিছুই সম্ভব।’
তিনটি বিশ্বকাপ খেলা ডনোভান তার নতুন আত্মজীবনী ‘ল্যান্ডন: এ মেমোয়ার’-এ ২০০৬ বিশ্বকাপের পর মানসিক অবসাদে ভোগার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন।
বর্তমান মার্কিন দলকে নিয়ে বেশ আশাবাদী ডনোভান। তবে তার মতে, শুধু প্রতিভা নয়, বড় মঞ্চে চাপ সামলানোর মানসিকতা এবং সমর্থকদের অকুণ্ঠ সমর্থনই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। বৃহস্পতিবার বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই সেই কঠিন যাত্রার পরবর্তী অধ্যায় শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র।














