প্রতিনিধি ৪ আগস্ট ২০২৬ , ১:২১:৫১ প্রিন্ট সংস্করণ
একসময় অন্য রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে জয়ী করার কৌশল নির্ধারণ করতেন। এবার নিজেই নির্বাচনে লড়ে জয় পেলেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ থেকে রাজনীতিক হওয়া প্রশান্ত কিশোর। বিহারের রাজধানী পাটনার বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপির দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি ভেঙে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জন সুরাজ পার্টির (জেএসপি) প্রধান প্রশান্ত কিশোর ৬৪ হাজার ১৫১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির নীরজ কুমার পান ৪৪ হাজার ৮২৭ ভোট। ফলে ১৯ হাজার ৩২৪ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) প্রার্থী রেখা কুমারী ১৪ হাজার ২৭৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন।
ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান হয়।
জয়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশান্ত কিশোর বলেন, ‘তিন মাসের মধ্যেই বাঁকিপুরে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে পাবেন। শুধু আমাকে তিন মাস সময় দিন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার দরজা শুধু বাঁকিপুরের মানুষের জন্য নয়, পুরো বিহারের মানুষের জন্য খোলা। আমি অসাধারণ কিছু করিনি, কিন্তু মাত্র ৩০ দিনে বিজেপির ৩০ বছরের ঘাঁটি ভেঙে দিয়েছি।’
বাঁকিপুরের ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে বিহারের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
প্রশান্ত কিশোরের ভাষ্য, ‘বিহারের মানুষ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বার্তা দিয়েছেন যে, তারা বিহারের জন্য একজন ভালো মুখ্যমন্ত্রী চান। অপরাধমূলক অতীত বা বিতর্কিত ভাবমূর্তির কাউকে তারা রাজ্যের নেতৃত্বে দেখতে চান না।’
অন্যদিকে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী প্রশান্ত কিশোরকে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের এই মহোৎসবে বাঁকিপুর উপনির্বাচনে জনগণ জন সুরাজকে বেছে নিয়েছে। জনগণের এই রায়কে সম্মান জানিয়ে প্রশান্ত কিশোরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।’
দীর্ঘদিন ধরে বাঁকিপুর ছিল বিজেপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি। এই আসনের সাবেক বিধায়ক নীতিন নবীন একাধিকবার নির্বাচিত হয়ে পরে দলের জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্বেও উঠে আসেন। সম্প্রতি রাজ্যসভায় যাওয়ায় আসনটি শূন্য হলে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়।
নির্বাচন আরও আলোচনায় আসে, যখন প্রশান্ত কিশোর নিজেই প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। একই সময়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, এই নির্বাচন ছিল বিহারের তরুণ ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থান যাচাইয়ের একটি বড় পরীক্ষা। যদিও ভোটের আগে নীতিন নবীন দাবি করেছিলেন, বিজেপির প্রতি তরুণদের সমর্থন এখনো অটুট রয়েছে।
এদিকে প্রার্থী মনোনয়ন ঘিরেও সমস্যায় পড়ে বিজেপি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগের দিন পারিবারিক কারণ দেখিয়ে অভিষেক কুমার সিনহা প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ালে পরে যুবনেতা নীরজ কুমারকে প্রার্থী করে দলটি।





















