নওগাঁ প্রতিনিধি ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৩:৫২:৫৯ প্রিন্ট সংস্করণ
নওগাঁর মান্দা-নিয়ামতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ধান ও খড়ের পালায় অগ্নিসংযোগ এবং কৃষক পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার পরও ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।
গত ১১ ডিসেম্বর নওগাঁ আমলি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মো. আবেদীন (২০) একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় হাফিজুর, বেলাল খাঁ, আলম, রফিকুল, কালামসহ মোট ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) নিয়ামতপুর উপজেলার চক দেউলিয়া গ্রামের একটি খলিয়ানে জমির খড়ের পালা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ধানের পালা ও খড়ের পালায় আগুন দেওয়া হয়। পাশাপাশি গরুর ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
ঘটনায় গুরুতর আহত হন বৃদ্ধ কৃষক মো. আলতাফ। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে এবং মাথায় গুরুতর জখম হয়েছে। এছাড়া আশরাফুল ইসলাম ও মো. আবেদীন আহত হন। আহতদের প্রসাদপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মো. আলতাফের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। পরে আদালতের নির্দেশে মামলা দায়ের করতে হয়। তারা আরও দাবি করেন, ঘটনার পর বিবাদী পক্ষ পাল্টা অভিযোগ এনে তাদের পরিবারের দুজনকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে মো. আলতাফের ছেলে আশরাফুল ইসলাম ও মো. আবেদীন কারাগারে রয়েছেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
সর্বশেষ অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানান, মামলা দায়েরের পরও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ও গোপনে হুমকি দিয়ে আসছে। মামলা তুলে না নিলে আরও বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে বলে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। আদালত থেকে নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”
ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




















