নেত্রকোনা প্রতিনিধি: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৫:৫০:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ
রমজান মাসকে কেন্দ্র করে নেত্রকোনা-য় কেজি দরে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে তরমুজ। পুলিশ প্রশাসনের নজরদারি থাকলেও তরমুজের দাম নিয়ন্ত্রণে না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।
রমজানে ইফতারি এবং প্রচণ্ড গরমে তাপদাহ থেকে স্বস্তি পেতে বসন্তের রসালো ফল তরমুজের চাহিদা বেড়েছে। তবে আকাশছোঁয়া দামের কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ তরমুজ কিনতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
নেত্রকোনা শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা প্রচলিত নিয়ম ভেঙে পিস হিসেবে বিক্রির পরিবর্তে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট গড়ে তরমুজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
ক্রেতারা জানান, বর্তমানে প্রতি কেজি তরমুজের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা। ফলে পাঁচ কেজি ওজনের একটি তরমুজ কিনতে গুনতে হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। তাদের দাবি, সাধারণত এই আকারের তরমুজের দাম ১০০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।
তারা আরও অভিযোগ করেন, পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়ৎদাররা মিলেই সিন্ডিকেট তৈরি করে পিসের পরিবর্তে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করছেন, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও অভিযান পরিচালনা করা হলে দাম নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে বলেও মত দেন ক্রেতারা।
শহরের মাছুয়া এলাকার তরমুজ বিক্রেতা আব্দুল লতিফ বলেন,“আগে আমরা পিস হিসেবে তরমুজ বিক্রি করতাম। এখন কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে একটি তরমুজের দাম পড়ছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। আড়ৎদাররা আমাদের কাছে কেজিতে তরমুজ বিক্রি করছে, তাই আমাদেরও কেজিতে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
অন্য এক ফল ব্যবসায়ী বলেন, বাজারের অন্যদের মতো তাকেও কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করতে হচ্ছে। অনেক তরমুজ ফেটে যায় বা পচে নষ্ট হয়। এছাড়া নোয়াখালী ও বরিশাল থেকে তরমুজ আনতে পরিবহনসহ অতিরিক্ত খরচ হওয়ায় কেজি দরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানান তিনি।
নেত্রকোনা ফল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জজ মিয়া বলেন, জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যেই বাজারে নজরদারি শুরু করেছে। কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। নিয়মিত প্রশাসনিক নজরদারি থাকলে তরমুজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের দাবি, অবিলম্বে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বন্ধ করে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা হোক, যাতে কম আয়ের মানুষও ন্যায্য দামে তরমুজ কিনতে পারে।





















