শেখ শোভন আহমেদ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ , ১২:০০:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে কয়েক দিন ধরে একনাগাড়ে শীতের প্রকোপে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিন দিন তাপমাত্রা কমে আসায় শীতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে, যার প্রভাব পড়েছে এলাকার খেটে খাওয়া কর্মজীবী মানুষের ওপর। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার পোশাক মার্কেট ও ফুটপাতগুলোতে বেড়েছে ক্রেতা সমাগম ও বেচাকেনা।
উপজেলা সদরের দেবেলা মার্কেট ও শহীদ মিনার প্রাঙ্গণের ফুটপাতে মাটির ওপর পাটি কিংবা চট বিছিয়ে নানা ধরনের শীতবস্ত্রের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। তবে উপজেলার পোশাক মার্কেটগুলোর তুলনায় ফুটপাতগুলোতেই মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের আগ্রহ বেশি। কমদামে শীতবস্ত্র কেনার জন্য চারপাশ ঘিরে ভিড় করছেন ক্রেতারা।
মাটিতে, ভ্যানে ও টং সাজিয়ে বসা দোকানগুলোতে দেখা যাচ্ছে রকমারি নতুন ও পুরনো শীতবস্ত্র। এসব দোকানে পাওয়া যাচ্ছে নতুন ও পুরনো কোট, জ্যাকেট, সোয়েটার, চাদর, বিছানার চাদরসহ নারী ও শিশুদের নানা ধরনের বাহারি শীতের পোশাক।
উপজেলা সদরের ফুটপাতে বাসস্ট্যান্ড এলাকার শীতবস্ত্র বিক্রেতা ইমন বলেন, “আমি এই উপজেলায় সারা বছর নানান ধরনের মৌসুমি কাপড় বিক্রি করি। অন্যান্য সময়ে কোনো কোনো দিন দোকানে ক্রেতাই পাওয়া যায় না। কিন্তু শীত মৌসুমে আমার দোকানে হরেক রকমের কালেকশন থাকায় কেনাকাটা বেশ ভালো হয়। অন্য সময়ের তুলনায় শীতে বিক্রি বাড়ে প্রায় তিন থেকে চার গুণ।”
শীতবস্ত্র বিক্রেতা রয়িচ শেখ বলেন, “আমরা গরমকালের শেষদিকে গাঁট ধরে শীতবস্ত্র কিনে রাখি। শীত মৌসুমে সেগুলো স্বল্প লাভে বিক্রি করি। এতে ক্রেতারা কমদামে কাপড় পায়, আমরাও লাভবান হই।”
শীতবস্ত্র ক্রেতা নাহিদ জানান, “মার্কেটের ভালো দোকানে শীতের কাপড় কিনতে গেলে সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা লাগে। কিন্তু ফুটপাতে ভালো কাপড়ের পাশাপাশি দামও সাশ্রয়ী। এতে সাধ্যের মধ্যে বাচ্চাদের আবদার পূরণ করা যায়।”
অপর ক্রেতা জেবুন্নাহার বলেন, “সাশ্রয়ী মূল্যে কেনাকাটার জন্য এসেছি। তিনটি চাদর কিনেছি সাড়ে ৬শ’ টাকায়। এই চাদরগুলো অনেকটা মানসম্পন্ন। মার্কেটের দোকানে কিনতে গেলে দুই হাজার টাকার নিচে পাওয়া যেত না।”





















