সিলেট প্রতিনিধি: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ , ৪:৩৭:২১ প্রিন্ট সংস্করণ
সিলেটে হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে। শয্যা সংকটে এক বিছানায় একাধিক শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। অনেক রোগীর ঠাঁই হচ্ছে হাসপাতালের মেঝেতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হামের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সংক্রমণ বাড়ায় চলতি বছরের মার্চ থেকে ১০০ শয্যার শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে হামের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত করা হয়। পরে মে মাস থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ৮৫টি শয্যাও এ চিকিৎসার জন্য নির্ধারণ করা হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৮টা পর্যন্ত শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৮৫ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮৪ জন হাম আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। দুই হাসপাতালে মোট ১৮৫টি শয্যার বিপরীতে ভর্তি ছিলেন ৩৬৯ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে হামের চিকিৎসার জন্য নতুন করে ১২১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময় শেষে বিভাগজুড়ে মোট ৫২১ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। একই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯১ জনে।
সূত্র জানায়, সংক্রমণ শুরুর পর থেকে সিলেটে একাধিকবার হামের টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে। এরপরও সংক্রমণ কমছে না। টিকা নেওয়ার পরও অনেক শিশু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। শিশুদের পাশাপাশি কিশোর, তরুণ ও বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যেও সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
শয্যাসংখ্যার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ রোগীকে কীভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, জানতে চাইলে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মির্জা রিয়াদ হাসান বলেন, রোগী এলে ফিরিয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু হাসপাতালে শয্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। এ অবস্থায় দুটি শয্যা একত্র করে চার শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেক রোগীকে মেঝেতে রেখেও চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বাড়াতে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য বিভাগের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম বলেন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও শয্যাসংখ্যার তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ রোগী ভর্তি রয়েছেন। এরপরও চিকিৎসক ও নার্সরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। হামের চিকিৎসায় ওষুধের কোনো সংকট নেই বলেও জানান তিনি।





















