সারাদেশ

হবিগঞ্জ-৪ আসনে ফয়সাল–তাহেরি দ্বৈরথ, বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ

  মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ২:২২:২৭ প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। পাঁচ লক্ষাধিক ভোটারের সমন্বয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। এই আসনে এবার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সাল ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী, আলোচিত ইসলামী বক্তা গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরিকে ঘিরে।

ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সাল দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, শক্তিশালী ভোটব্যাংক এবং শিল্পপতি হিসেবে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে শুরু থেকেই এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে চা শ্রমিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাঁর নমনীয় আচরণ এবং নিয়মিত সহায়তা ভোটের মাঠে তাঁকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে।

দলীয় বিভাজন কাটিয়ে বিএনপিকে অনেকটাই ঐক্যবদ্ধ করে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন ফয়সাল। দলীয় সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক মামলা ও তথাকথিত মামলা-বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে তাঁর অনড় অবস্থান ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। পাশাপাশি নেতানির্ভর প্রচারণার পরিবর্তে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের কৌশলও তাঁর জন্য সহায়ক হচ্ছে।

অন্যদিকে, মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরিও ভোটের মাঠে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তাঁর সভা-সমাবেশে তরুণ ও প্রবীণদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বক্তব্যে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, মাজার ভাঙচুর ও উগ্রবাদী মববাজির বিরুদ্ধে অবস্থান, সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের আলোকে সংসদে প্রতিনিধিত্বের অঙ্গীকার গুরুত্ব পাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, তাহেরির একটি নীরব ভোটব্যাংক রয়েছে। সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি অংশ এবং চা-বাগান অধ্যুষিত এলাকায় তিনি উল্লেখযোগ্য সাড়া পাচ্ছেন। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সুমনের একটি পুরনো বক্তব্য—যেখানে তাহেরিকে ভবিষ্যতের সংসদ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল—তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের ধারণা, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের একটি ভোটব্যাংকের অংশবিশেষ নীরবে তাহেরির দিকে ঝুঁকতে পারে। এমনকি বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা-কর্মীর গোপন সমর্থনও তিনি পাচ্ছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

ভোট বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, মাধবপুরের তুলনায় চুনারুঘাট উপজেলায় তাহেরির প্রভাব কিছুটা বেশি। জনসেন্টিমেন্ট বুঝে তা কৌশলে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেও তিনি দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন বলে মন্তব্য করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

সব মিলিয়ে, একদিকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রামের ফসল ঘরে তুলতে মরিয়া বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মো. ফয়সাল, অন্যদিকে নীরব কিন্তু শক্ত অবস্থান তৈরি করা গিয়াস উদ্দিন আত তাহেরি—এই দ্বৈরথে কে জয়ী হবেন তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে এটুকু স্পষ্ট, হবিগঞ্জ-৪ আসনে এবারের নির্বাচন হবে হাড্ডাহাড্ডি ও অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

আরও খবর

Sponsered content