প্রচ্ছদ

গঙ্গাচড়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের গর্ত থেকে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার: এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভ

  গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: ৭ আগস্ট ২০২৫ , ৩:১৯:৫৭ প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের নগরবন্দ ডাঙ্গি এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে প্রাণ হারালো দুই নিষ্পাপ শিশু। বুধবার (৬ আগস্ট) সকালে স্থানীয়ভাবে বালু উত্তোলনের জন্য বসানো লোহার পাইপের গর্ত থেকে উদ্ধার করা হয় শিশু মারুফ মিয়া (৭) ও আব্দুর রহমান রোমান (৭) এর নিথর দেহ।

মারুফ মিয়া ভূমিহীন জাকিরুল ও ফুলমতি বেগমের সন্তান এবং রোমান আব্দুর রশিদ ও খাদিজা বেগমের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, ৫ আগস্ট সকালে শিশুদুটি বালুতে পাথর কুড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। বহু খোঁজাখুঁজির পরও সেদিন তাদের খোঁজ মেলেনি। পরদিন নদীর তীরবর্তী আজহারুলের বালু উত্তোলনের গর্তেই শিশু দুটির মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া ও ব্যাপক ক্ষোভ।

ফায়ার সার্ভিসের (ভারপ্রাপ্ত) স্টেশন মাস্টার আব্দুল মান্নান জানান, “একটি লাশ পানির নিচে, অন্যটি মাটির ২-৩ ফুট নিচে পাওয়া গেছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, গর্তে তেমন পানি না থাকায় ডুবে যাওয়ার কথা অসম্ভব। রোমানের গলায় দড়ি দেখে অনেকেই ধারণা করছেন, এটি পরিকল্পিত হত্যা হতে পারে।

এর আগেও, ২৪ জুলাই একই স্থানে অবৈধভাবে ফসলি জমিতে লোহার পাইপ বসিয়ে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলনের খবর স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে, ২৬ জুলাই বালু মহাল আইনে ৩১/২৪৪ নম্বর মামলা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন: আজহারুল , শোয়াইব ,লাভলু , আবুল কাশেম ,রবিউল ইসলাম ।

তবে পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার করেনি। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, পুলিশ টাকা নিয়েই চলে যায়, কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয় না। ফলে অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত ছিল।

স্থানীয় দেলোয়ার হোসেন বলেন, “প্রশাসন যদি আগে ব্যবস্থা নিত, তাহলে এই শিশুরা প্রাণ হারাত না। এ মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”

নগর ডাঙ্গী এলাকার আমিনুর ইসলাম বলেন, “আজহারুলদের বসানো গর্তেই মরদেহ পাওয়া গেছে। একজনের গলায় দড়ি বাঁধা ছিল। এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়— এটা হত্যা।”

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল এমরান বলেন, “এখনো এ ঘটনায় মামলা হয়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হবে। আগে দায়ের হওয়া বালু মহাল মামলায়ও এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।”

এলাকাবাসী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ঘটনা শুধু অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলেই নয়, বরং প্রশাসনিক উদাসীনতা ও দুর্নীতির মারাত্মক ফল।
পানি, শিশু, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ আইন অনুযায়ী— এমন কাজের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও পরিবেশ আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবেই ঘটছে একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনা। এলাকার মানুষ এখন একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে— শিশু দুটি শুধু দুর্ঘটনায় মারা গেছে, নাকি লোভী চক্রের নিষ্ঠুর পরিকল্পনার শিকার?
জোর দাবি উঠেছে, শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা ও বালু চক্রকে আইনের আওতায় আনার।

আরও খবর

Sponsered content