নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ২৭ মার্চ ২০২৬ , ১১:২৪:৫৭ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীর ফুটপাতগুলো এখন হকার ও অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে। পথচারীদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের জন্য উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) কোটি টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন ও প্রশস্ত ফুটপাত নির্মাণ করলেও এর সুফল থেকে বঞ্চিত সাধারণ মানুষ। উল্টো রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব ফুটপাত ঘিরে গড়ে উঠেছে চাঁদাবাজির অভিযোগ।
সরেজমিনে বনানীর ওয়্যারলেস গেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পুরো ফুটপাত দখল করে বসেছে চা, সিগারেট ও বিভিন্ন ভাসমান দোকান। সিটি কর্পোরেশনের নির্মিত বসার জায়গাও এখন দোকানে ভরা। শুধু ফুটপাত নয়, ব্যস্ত সড়কের বড় অংশও দখল হয়ে গেছে হকার ও ভ্যান গাড়ির পার্কিংয়ে।
বৈশাখী মোড়ের সামনে সড়কের একটি বড় অংশ ভ্যানের দখলে থাকায় স্থানীয়দের কাছে জায়গাটি এখন ‘ভ্যান চত্বর’ নামে পরিচিত। এমনকি জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করে রাস্তা পার হওয়ার পর ফুটপাতে ওঠার জায়গাটুকুও খালি রাখা হয়নি।
একই চিত্র দেখা গেছে টিঅ্যান্ডটি স্কুল রোড, মহাখালী মডেল স্কুল রোড, ক্যান্সার হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ক্যাম্পাসের সামনে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশেষ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। অভিযানের পরপরই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় পরিস্থিতি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফুটপাত দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয়। অভিযোগ অনুযায়ী—
স্থানীয় বাসিন্দা আহসান হাবীব বলেন, “নেতারা যদি চাঁদা না নেয়, তাহলে এই অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদ হচ্ছে না কেন? আমরা ট্যাক্স দিই, কিন্তু নিরাপদে ফুটপাতে হাঁটতে পারি না।”
বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা সিটি কর্পোরেশনের কাজ। তবে চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
ডিএনসিসির এক কর্মকর্তা জানান, “আমরা নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালাই, কিন্তু তা স্থায়ী হয় না। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করা কঠিন। খুব দ্রুত বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে।”
বনানীবাসীর দাবি, অবৈধ দখলদার ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে ফুটপাতগুলো দ্রুত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হোক। অন্যথায় এই অভিজাত এলাকার সড়কব্যবস্থা ও জননিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।




















