প্রচ্ছদ

শৈলকুপায় স্বেচ্ছাশ্রমে ১৩ কিলোমিটার সেচখাল পরিষ্কার করলেন কৃষকরা

  তানভীর সরদার, স্টাফ রিপোর্টার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ৯:৩৬:২৭ প্রিন্ট সংস্করণ

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে থাকা সেচখাল অবশেষে স্বেচ্ছাশ্রমে পরিষ্কার করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। পৌর এলাকার আউশিয়া গ্রামের সেতু থেকে দামুকদিয়া পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার খাল পরিষ্কার কাজে অংশ নেন শত শত কৃষক।

রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে এ মহৎ উদ্যোগ। কারও মাথায় গামছা, কারও কোমড়ে কাপড়, কেউ হাতে কোদাল, কেউ কাঁচি—যেভাবে পারেন কাজ চালিয়ে গেছেন সবাই। যেন দম ফেলার সময় নেই।

কৃষকরা জানান, এস-নাইন-কে নামের এই খালটি বহু বছর ধরে ভরাট হয়ে ময়লা-আবর্জনা আর আগাছায় পরিপূর্ণ। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে পানি প্রবাহ। এতে কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দিতে কৃষকদের স্যালো মেশিনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে, উৎপাদন খরচে বাড়তি চাপ পড়ছে কৃষকের ওপর।

দামুকদিয়া গ্রামের কৃষক কবির হোসেন বলেন, “খালে সারাবছর পানি থাকলে আমাদের আর টাকা খরচ করে সেচ নিতে হয় না। এতে উৎপাদন খরচও কমে আসে।”

আরেক কৃষক শাওন হোসেন বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বারবার খাল পরিষ্কারের অনুরোধ করলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাই গ্রামের মানুষ নিজেরাই আবর্জনা পরিষ্কার করতে বাধ্য হয়েছে।”

কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, “সেচ নিয়ে চাষ করলে ফসলের লাভ থাকে না। আমরা চাই সারাবছর খালে পানি থাকুক।”

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বাদশা আলমগীর বলেন, “খালটি শেষ প্রান্তে হওয়ায় পানি প্রবাহে সমস্যা হয়। এর সঙ্গে কয়েকটি রেগুলেটরি ও টারশিয়ারী গেট থাকায় পানি যথাযথভাবে পৌঁছায় না। তবে শিগগিরই একটি প্রকল্পের মাধ্যমে খালটি পুনঃখনন ও সংস্কার করা হবে।”

প্রতিবছরই খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। তাদের দাবি, খালটি সচল হলে কয়েক গ্রামের হাজার হাজার একর জমিতে সহজে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে। তাতে কমবে সেচ ব্যয়, লাভবান হবেন কৃষকরা।

আরও খবর

Sponsered content