প্রতিনিধি ২৩ জুলাই ২০২৫ , ৩:৫৯:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ
তানভীর সরদার, স্টাফ রিপোর্টারঃ
ঝিনাইদহের কাশিমপুর গ্রামের এক যুবকের চোখে জল, বুকভরা কষ্ট আর বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন আজ দুঃস্বপ্নে পরিণত। মানবপাচার চক্রের প্রতারণায় সর্বস্ব হারিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জনসমক্ষে নিজের দুঃখগাথা তুলে ধরলেন রেমিটেন্স যোদ্ধা রবিউল ইসলাম।
সোমবার (২২ জুলাই) দুপুরে ঝিনাইদহ শহরের বাংলাদেশ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ইতালী পাঠানোর প্রলোভনে পড়ে প্রতারক নাজমুল খান ও নজরুল ইসলামের কাছে জমি বিক্রি করে ২২ লাখ টাকা দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি পৌঁছান রাশিয়ার সেনা ক্যাম্পে!
লিখিত বক্তব্যে রবিউল বলেন, মাগুরা জেলার রাউতাড়া গ্রামের আছাদ মোল্লার ছেলে নাজমুল খান এবং তার বোন জামাই নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ইতালিতে বসবাস করার সুযোগে ‘বিদেশ পাঠানোর ব্যবসা’ চালু করেন। তারা একটি শক্তিশালী মানবপাচার চক্র গড়ে তোলে, যার নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে পড়ে ঝিনাইদহ-মাগুরাসহ সারা দেশে। টাকা সংগ্রহে তারা নিজেদের পরিবারের সদস্যদের পর্যন্ত ব্যবহার করে।
২০২৩ সালের ১৩ জুন ৪ মাসের মধ্যে ইতালী পাঠানোর মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে রবিউলের কাছ থেকে ২২ লাখ টাকা নেয়া হয়। এরপর ২০২৪ সালের জুনে ঢাকায় ডেকে ৩৬ দিন একটি হোটেলে নিজের খরচে রাখে এবং তিনবার ভুয়া টিকিট দিয়ে বিমানবন্দরে পাঠায়। পরে সৌদি আরবে পাঠালেও সেখানেও কাজের কোনো সুযোগ না পেয়ে তিন মাস পর দেশে ফিরতে বাধ্য হন।
রবিউলের অভিযোগ, টাকা ফেরত চাইলে নাজমুল এক সপ্তাহের মধ্যে সার্বিয়ার ফ্লাইট দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু তা হয়নি। উপরন্তু প্রতারক চক্র এখন তাকে জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে। এ সময় রবিউল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি আজ পথের ভিখারি। এনজিও’র ঋণের কিস্তি দিতে না পারায় মামলা দিয়ে জেলে পাঠানোর ভয় দেখানো হচ্ছে। আত্মীয়দের কাছ থেকে নেয়া ধার শোধ করাও অসম্ভব।”
তিনি আরও জানান, তার মতো আরও অনেকে এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। কাশিমপুরের গাফ্ফার, সোনাদহ গোয়ালপাড়ার নান্টু, জার্মানের শাহাদৎসহ অসংখ্য মানুষ আজ নিখোঁজ বা বিদেশের কারাগারে বন্দি। অনেককে রাশিয়ার সেনা ক্যাম্পে বিক্রি করা হয়েছে, কেউ কেউ প্রাণ হারিয়েছেন ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দানে।
সংবাদ সম্মেলনে রবিউল ইসলাম প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, “এই প্রতারক চক্রকে দ্রুত গ্রেফতার করে আমাদের টাকা উদ্ধার করুন। নাহলে আমরা পথে বসবো, কেউই আর বাঁচবো না।”




















