প্রতিনিধি ১ অক্টোবর ২০২৫ , ১২:৩৮:২৪ প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এক অনন্য নাম। তার রাষ্ট্রপ্রেম, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ আজও এ বাংলার মানুষের হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে। তিনি ছিলেন এমন এক নেতা, যিনি শুধু রাষ্ট্র পরিচালনা করেননি, বরং জাতির আত্মমর্যাদাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন।
জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ নতুন দিগন্তে পা রাখে—রাজনীতি, প্রশাসন, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে তিনি রেখে গেছেন এক সুদূরপ্রসারী ছাপ। তিনি বিশ্বাস করতেন, নেতৃত্ব মানে জনগণের কল্যাণে কাজ করা এবং সততা বজায় রেখে জীবনযাপন করা। আজকের যুগে, যেখানে ‘কিবোর্ড’ ও ‘ক্যামেরা’ গণতন্ত্রের নতুন হাতিয়ার, সেখানে জিয়ার আদর্শ আমাদের শেখায়—তথ্যপ্রযুক্তিকে হতে হবে জবাবদিহিতা ও সেবার শক্তি, বিভাজনের নয়।
জিয়াউর রহমানের আত্মমর্যাদার ধারণা আজ প্রযুক্তিনির্ভর যুগে নতুন করে প্রাসঙ্গিক। স্বাধীনতা শুধু মানচিত্রের বিষয় নয়; এটি আত্মমর্যাদা ও আত্মনির্ভরতার প্রশ্ন। আজকের বাংলাদেশে সেই আত্মমর্যাদা রক্ষার আধুনিক উপায় হলো তথ্যপ্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতা ও তথ্যে স্বাধীনতা। বিএনপি চাইলে তরুণ প্রজন্মের জন্য “তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নেতৃত্ব বিকাশ” কর্মসূচি নিতে পারে—যাতে তরুণরা ডিজিটাল জ্ঞান ও সৃজনশীলতাকে রাষ্ট্রগঠনের শক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারে।
জিয়াউর রহমানের শাসনকাল ছিল নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে অর্থনীতি পুনর্গঠন, প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কার এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেন। তার বিশ্বাস ছিল—“শুধু সৎ ও নিষ্ঠাবান নেতৃত্বই জাতির উন্নতির মূল চাবিকাঠি।”
জিয়া টেকসই উন্নয়নের দর্শনকে অনেক আগে থেকেই বাস্তব নীতিতে পরিণত করেছিলেন। স্বনির্ভরতা, সম্পদ সংরক্ষণ ও জনগণের অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন ছিল তার অগ্রাধিকার। বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরতার পরিবর্তে তিনি বলেছিলেন—“সহায়তা নয়, বাণিজ্য চাই।” এটি ছিল জাতির আত্মমর্যাদার ঘোষণা।
জিয়াউর রহমানের “নিজের গ্রাম, নিজে গড়ো” কর্মসূচি ছিল বাংলাদেশের উন্নয়ন দর্শনের মেরুদণ্ড। তার লক্ষ্য ছিল—গ্রাম হবে উৎপাদনের কেন্দ্র, যেখানে কৃষক, শ্রমিক ও উদ্যোক্তারা সমবায়ভিত্তিক অংশীদারত্বে কাজ করবে।
তিনি কারিগরি ও কৃষিভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন, যাতে তরুণরা কর্মমুখী হয়ে ওঠে। “ভিক্ষাবৃত্তি নয়, স্বনির্ভরতা”—এ শুধু একটি স্লোগান ছিল না, বরং জাতি গঠনের দার্শনিক ভিত্তি। তার নেতৃত্বে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ যেমন খাল পুনঃখনন ও বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার শুরু হয়—যা আজও প্রাসঙ্গিক।
জিয়াউর রহমান সীমান্তকে দেখেছিলেন শুধু ভূগোল নয়, জাতীয় মর্যাদার রেখা হিসেবে। তার মতে, “সীমান্ত রক্ষা মানে দেশের সম্মান রক্ষা।” সেনাবাহিনীর আধুনিকীকরণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্গঠনের মাধ্যমে তিনি জাতীয় আত্মমর্যাদাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন।
আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে জিয়ার দর্শন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তার বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ছিল আত্মমর্যাদা, ঐক্য ও উন্নয়নের দর্শন। আধুনিক জাতীয়তাবাদ মানে শুধু অতীতের গৌরব নয়—বরং ভবিষ্যতের স্বপ্ন ও দায়িত্ব।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবন ও চিন্তা আমাদের শেখায়—একটি জাতি তখনই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে, যখন তার নেতৃত্ব সৎ, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ হয়।
আজ যখন আমরা প্রযুক্তিনির্ভর যুগে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি, তখন শহীদ জিয়ার দর্শন ও দৃষ্টিভঙ্গি আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। তার রাষ্ট্রনায়কত্বের শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতা রক্ষার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আত্মমর্যাদা, সততা এবং জনগণের প্রতি ভালোবাসা।




















