সারাদেশ

পার্বতীপুরে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ আলুর গুদামঘর!

  রুকুনুজ্জামান, পার্বতীপুর প্রতিনিধি: ১১ নভেম্বর ২০২৫ , ৫:১২:০৫ প্রিন্ট সংস্করণ

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় বনকরবী উপজাতীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ এখন যেন আলুর কোল্ড স্টোরেজে পরিণত হয়েছে। উপজাতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে একজনও উপজাতীয় শিক্ষার্থী নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের তিনটি শ্রেণিকক্ষে বর্তমানে পঞ্চম, চতুর্থ ও তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস চলছে। এর মধ্যে পঞ্চম শ্রেণিতে চারজন, চতুর্থ শ্রেণিতে দুইজন এবং তৃতীয় শ্রেণিতে সাতজন শিক্ষার্থী উপস্থিত। মাত্র দুই শিক্ষার্থী নিয়ে একটি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলছে।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বেলা ২টা ৩০ মিনিটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষের পুরো মেঝেতে আলু বীজ রাখা রয়েছে। দেখে বোঝার উপায় নেই এটি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ। স্থানীয়রা জানান, উপজাতীয় শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৯৯১ সালে স্থানীয় দুই ভাইয়ের দান করা জমিতে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু বর্তমানে সেখানে কোনো উপজাতীয় শিক্ষার্থী নেই, বরং একটি শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করা হচ্ছে আলুর গুদাম হিসেবে।

এক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, “ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক যোগদানের পর থেকেই বিদ্যালয়টি নিজের মতো করে পরিচালনা করেন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন।”

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, “শ্রেণিকক্ষে রাখা আলুবীজ আমার নয়, স্কুলের আয়া রেখেছে। খুব দ্রুত তা সরিয়ে নেওয়া হবে।” তিনি দাবি করেন, বিদ্যালয়ে ১০৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে বাস্তবে উপস্থিত দেখা গেছে মাত্র ১৩ জন শিক্ষার্থী, যার মধ্যে উপজাতীয় কেউ নেই। বর্তমানে স্কুলে ২০ জন খ্রিস্টান ও একজন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী রয়েছে বলে জানা গেছে।

পার্বতীপুর সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আতিকুর রহমান বলেন, “বিষয়টি জানার পর আমরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
পার্বতীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. এনামুল হক সরকার বলেন, “বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জেনেছি। শ্রেণিকক্ষ খালি করার নির্দেশ দেওয়া হবে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আরও খবর

Sponsered content